গত নয় বছরে যোগাযোগ খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন

সাজিয়া স্নিগ্ধা

পর্ব ১

যে কোন দেশের সার্বিক উন্নয়নের চাবিকাঠি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে সে দেশের ব্যবসা বানিজ্য , কৃষি , শিক্ষা, চিকিৎসা,, প্রযুক্তি,শিল্প সকল খাতে উন্নয়ন সাধিত হয়। আওয়ামীলীগ সরকার সে ব্যাপারে শতভাগ সফল। শেখ হাসিনা সরকার গত নয় বছরে যোগাযোগ খাতে বৈপ্লবিক উন্নয়ন সাধন করতে পেরেছে। উন্মোচিত হয়েছে সফলতার নতুন দ্বার।

রাষ্ট্রীয় গণপরিবহন ব্যবস্থায়  বি আরটিসি বহরে বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি হয়েছে আগের তুলনায় অনেক।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সুবিধা বঞ্চিত শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য বিআরটিসি বাসে আরোহণ ও অবতরণ সুবিধা প্রদানের জন্য বাস স্টপেজে পোর্টেবল র‌্যাম্প চালু করেছেন । যাতে সাধারন মানুষের মত শারীরিক প্রতিবন্ধীরাও নাগরিক সুবিধা ভোগ করতে পারে।স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী দেশের সূর্য সন্তান যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা ( খেতাবপ্রাপ্ত) বিনা ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারছেন সে ব্যাপারেও লক্ষ্য রাখা হয়েছে।  নিরবচ্ছিন্ন ও স্বচ্ছন্দ যাতায়াতের জন্যই-স্মার্ট কার্ডএর প্রচলন করেছেন। এক কোথায় পুরো ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট-ট্রাফিক সেফটি ব্যবস্থার উন্নয়ন ও বাস পরিবহন সেক্টর পুনর্গঠন করেছেন

উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা রক্ষা করা। গত নয় বছরে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে যোগাযোগ খাতের সড়ক, রেলপথ, নৌপথ এবং আকাশপথে আধুনিকতা পরিলক্ষিত হয়েছে নিরবিচ্ছিন্নভাবে। উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে  বিভাগজেলাউপজেলা ইউনিয়ন পর্যায়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম ফোর লেনঢাকা-ময়মনসিংহ ফোর লেনরংপুর ফোর লেননবীনগর ডিইপিজেড-চন্দ্রা মহাসড়ক, কর্ণফুলী নদীতে টানেল নির্মাণ ,যাত্রাবাড়ি-কাঁচপুর মহাসড়কসহ মোট ৪৬৫ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ককে চার বা তদূর্ধ্ব লেনে উন্নীত,৩ হাজার ৯৩১ কিলোমিটার মহাসড়ক মজবুতীকরণ, ৪ হাজার ৫৯২ কিলোমিটার মহাসড়ককে প্রশস্ত, এক হাজার ৫৯৪ কিলোমিটার জেলা মহাসড়ক সংস্কার ও মেরামত ,৮৪২টি সেতু ও ৩ হাজার ৫৪৬টি কালভার্ট নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ, গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর বাস র্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্পকাঁচপুর,মেঘনা ও গোমতী ২য় সেতু নির্মাণ১০টি সড়ক জোনভিত্তিক ১০টি গুচ্ছ প্রকল্প গ্রহণ, ৪৬৫ কিলোমিটার সড়ককে চার বা তদূর্ধ্ব লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলছে চলছে  পুরোদমে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ছোঁয়া শুধু বড় বড় গ্রাম  শহরে লাগেনি পার্বত্য তিন জেলা রাঙামাটিখাগড়াছড়ি ও বান্দরবনেও  যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে

যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উন্নয়নের চাবিকাঠি বিবেচনা করে সরকার গ্রহণ করেছে একের পর এক মেগা প্রকল্প। দ্রুত সম্পাদনের মাধ্যমে দেশের জনসাধন যাতে সুবিধা ভোগ করতে পারে সেজন্য বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নাম দেয়া হয়েছে ফার্স্ট ট্র্যাক মেগা প্রজেক্টযার মাঝে অন্যতম নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু ,পদ্মা মালটিপারপাস ব্রিজ ,পদ্মা রেল লিঙ্ক প্রজেক্ট দোহাজারি- রামু- কক্সসবাজার গন্দুম রেলওয়ে,মেট্রো রেল যেটি প্রতি ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহনে সক্ষম,পায়রা সি পোর্ট ,সোনাদ্বীপ সি পোর্ট, ঢাকা কক্সবাজার রেল লিঙ্ক সহ অন্যান্য। এ সকল মেগা প্রকল্প সম্পন্ন হলে বদলে যাবে দেশের চেহারা।উন্নত দেশের কাতারে পৌছতে বাংলাদেশকে আর বেশিদিন ভাবতে হবে না। এর সুফল এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।

দেশী বিদেশী  চক্রান্তকে উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এককভাবে পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন করার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করেন। বিশ্বব্যাংকবিশ্ব দাতা সংস্থাগুলো যখন মুখ ফিরিয়ে নিল শেখ হাসিনা সে সময়ই   যাবত কালে উন্নয়ন প্রকল্পের সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেন,পদ্মা সেতু নির্মাণে হাত দিলেন।  যোগ্য পিতার যোগ্য কন্যা বিশ্বকে দেখিয়ে দিলেন বাঙালি চাইলে অসাধ্য সাধনের পথেও অগ্রসর হতে পারে।পদ্মা সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হলে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর সংযোগ সহজ হবে। ব্যবসায়ী এবং সাধারন মানুষের জন্য সময় এবং খরচ দুটিইকমে আসবে।  

যানজটের দুর্ভোগে শহরবাসীর দৈনন্দিন জীবন ছিল অসহনীয়।  গত নয় বছরে বর্তমান সরকার  যানজট নিরসনে নগরবাসীর জন্য ফ্লাইওভার  রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।যার মাঝে উল্লেখযোগ্য  মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারবিশ্বরোড-বিমানবন্দর সংযোগস্থল ফ্লাইওভারমিরপুর হতে বিমানবন্দর সড়ক ফ্লাইওভারবহদ্দারহাট উড়ালসেতুমগবাজার-মৌচাক ফাইওভার সহ নানা প্রকল্প ফ্লাইওভার এর কাজ সম্পন্ন হলে  যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা সহ সময় বাঁচবে অনেক বৃদ্ধি পাবে জীবনমান।  

উন্নত দেশের শহরগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে ঢাকা শহরকে আধুনিক করা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজীকরণের জন্য ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শুরু হয়েছে ঢাকা শহরে যার মাঝে উল্লেখযোগ্য এয়ারপোর্ট টু বনানী রেল ষ্টেশন ,বনানী টু মগবাজার রেল গেট ,মগবাজার টু  কুতুবখালি ,উত্তরা থেকে আগারগাও ,উত্তরা থেকে আশুলিয়া, হযরত শাহজালাল (র.) বিমানবন্দর থেকে কুতুবখালী। দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে প্রকল্প সমাপ্তির কাজ।

নগরবাসীর জন্য শেখ হাসিনা সরকারের আরেকটি বড় উপহার আসছে মেট্রো রেল। যোগাযোগ খাতে আরেকটি মাইল ফলক। যানজটমুক্ত ঢাকা আর নগরবাসীর জীবনযাত্রা  সহজীকরনের জন্য মেট্রোরেল পালন করবে এক কার্যকরী ভুমিকা। এগিয়ে চলছে মেট্রোরেলের সমাপ্তির কাজ।  পাশাপাশি শুরু হয়েছে মেট্রোরেলের লাইন৬ এর নির্মাণকাজ। মেট্রোরেলের আরো কয়েকটি বরুট নিয়ে চলছে সমীক্ষা। র্তমানে উত্তরা থেকে মতিঝিল যেতে সময় লাগে তিন থেকে চার ঘণ্টা। মেট্রো রেল সেটা কমিয়ে আনবে ৪০ মিনিটে

বদলে গেছে ঢাকা শহরের চিত্র। অবৈধ পার্কিংবিলবোর্ডের জঞ্জালফুটপাতে হকার ভিখারিদের উৎপাত  সবই প্রায় অতীত।এয়ারপোর্ট থেকেঢাকা শহরে প্রবেশের পথেই দৃষ্টিনন্দন পরিছন্নতা ছাড়াও  রাস্তার দুধারে সবুজের শ্যমল ছায়া পরিলক্ষিত।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ডিভাইডারগুলোকেও সবুজের চাঁদরে ঢেকে দেয়ার পরিকল্পনা করেছেন।   

যোগাযোগ খাতে প্রায় এক হাজার প্রকল্পের কাজ এখন চলমান। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ণে সদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করছে সরকার যোগাযোগ ব্যবস্থার এহেন উন্নয়নে আমরা আশাবাদী যে নির্ধারিত সময়ের আগেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর হবে বাড়বে অর্থনৈতিক অগ্রগতি।উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সফলতা কামনা করছি।  

২০শে আগস্ট ২০১৮