নারীর ক্ষমতায়ন , নারী অধিকার রক্ষায় বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা  

সাজিয়া স্নিগ্ধা

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানএ নাম মুখে নিলেই শ্রদ্ধায় অবনমিত হয় প্রতিটি বাঙ্গালীর হৃদয়।আমাদের পরম ভালবাসার , পরম শ্রদ্ধার মানুষ তিনিশত বছরের শোষণ বঞ্চনা, নির্যাতন নিপীড়নের হাত থেকে বাঙ্গালীকে মুক্ত করেছিলেন বঙ্গবন্ধু।বিশ্ব মানচিত্রে উপহার দিয়েছেন স্বাধীন সার্বভৌম নতুন জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশ।জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত ছিলেন আপোষহীন। তিনি শুধু বাঙালির নেতা ননবিশ্ববাসীর কাছেও একজন মহান ব্যক্তিত্ব।বিশ্ব নেতৃত্ব বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ছিলেন বিস্মিত , মুগ্ধ। ফিদেল ক্যাস্ট্রো বঙ্গবন্ধুকে হিমালয়ের সাথে তুলনা করেছিলেনহেনরি কিসিঞ্জার বলেছিলেন “আওয়ামীলীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের মত তেজী এবং গতিশীল নেতা আগামী বিশ বছরের মধ্যে এশিয়া মহাদেশে আর পাওয়া যাবে না।”

বঙ্গবন্ধুর জীবনচরিত আজো বিশ্ববাসীর কাছে অনুকরণীয়,অনুসরণীয়।তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি সিদ্ধান্তে ছিল বিচক্ষণতা, দূরদর্শিতা, মেধা, মহানুভবতা এবং প্রজ্ঞার ছাপ।  বঙ্গবন্ধুর সকল ভাষণকর্মকান্ডশাসনপ্রণালীমুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের খেতাবপ্রদান ও জীবনচরিত বিশ্লেষণে সুস্পষ্ট হয়তিনি সারাজীবন বৈষম্যমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র গড়তে সংগ্রাম করেছেন। কিন্তু তাঁর সমাজ সংস্কার বিশেষ করে নারী অধিকার রক্ষায় তাঁর বিশাল ভূমিকা খুব একটা আলোচিত নয়। নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারীর সামাজিক অধিকার,  সন্মানের ব্যপারে বঙ্গবন্ধু প্রথম থেকেই অত্যন্ত সচেতন ছিলেন।

রাজনীতিতে নারীর ক্ষমতায়নে বঙ্গবন্ধু

ছয় দফার আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হওয়ার আগে আমেনা বেগমকে (১৯২৫-১৯৮৯)   দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের পদে মনোনয়ন দেন এবং ওই বছর ২৭ জুলাই আমেনা বেগমকে দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই সময় আওয়ামীলীগের কোন কোন প্রবীণ পুরুষ নেতা আপত্তি তুলেছিলেন। বলেছিলেন, এই সংগ্রামের চরম মুহূর্তে একজন নারীকে দলের নেতৃত্ব দিলে হয়ত সাধারণ মানুষ সারা দিবে না। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, নারীদেরও পুরুষদের মত সমান অধিকার এবং তা রাজনীতির ক্ষেত্রেও। আওয়ামীলীগ যেমন অসাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাস করে তেমনি নর নারীর সমান অধিকারেও বিশ্বাস করে। আওয়ামীলীগেও নারী নেতৃত্ব গড়ে তোলা দরকার।

বঙ্গবন্ধু তাঁর সংগ্রামী রাজনীতিতে নিজের সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবকেও জড়িয়েছিলেন।তিনি জেলে থাকতে বেগম মুজিব দলের নেতাদের সাহায্য ও পরামর্শ যোগাতেন।মায়া মমতা ভালোবাসা দিয়ে দলের মানুষদের যেমন আঁকরে রাখতেন তেমনি বঙ্গবন্ধুকে বিভিন্ন দুর্যোগপূর্ণ সময়ে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করতেন  শুধু  ছেলেদের নয় নিজের দুই মেয়েকেও পিতার আদর্শে গড়ে তুলেছিলেন বেগম মুজিবযার ফলে আজ আমরা জননেত্রী শেখ হাসিনার মতো একজন আদর্শিক নেত্রীকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রনায়ক  হিসেবে পেয়েছি।   

নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার তাগিদ বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রেও আমরা লক্ষ্য করেছি।  বঙ্গবন্ধু তাঁর মন্ত্রীসভায় নারী সদস্য গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন। নারীর প্রশাসনিক ক্ষমতায়ন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ পর্যায়ে নারীর অন্তর্ভুক্তি তথা উন্নয়নের মুল্ধারায় নারীকে সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্যে ১৯৭২ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

১৯৭২ সালে প্রণীত প্রথম ও মূল সংবিধান এবং পরবর্তীতে কয়েকটি সংশোধনীতে নারীদের বাড়তি সুযোগ সুবিধা ও সংরক্ষিত অধিকার দেওয়ার কথা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সংযোজন করা হয়েছে। বাংলাদেশে নারী পুরুষের সরকারি চাকরি ও কর্মে সমান অধিকার নিশ্চিত করে সংবিধান প্রণয়ন করা হয়। সংবিধান কেবলমাত্র নারী পুরুষের সমতাই নিশ্চিত করে নিএছাড়াও সরকারি চাকরির নির্দিষ্ট আনুপাতিক সংখ্যক পদ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত রাখার মাধ্যমে বিদ্যমান অসম প্রতিনিধিত্ব নিরসনের প্রয়োজনীয়তাও স্বীকার করে। সংবিধানে সরকারি চাকুরিতে মেয়েদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে দিয়ে সব ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ অবারিত করে ১০ ভাগ কোটা সংরক্ষণ করা হয়। সংবিধান জাতীয় সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য ৬৫নং ধারার মাধ্যমে সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা করেছে।১৯৭৩ সালে সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা ছিল ১৫ টি।সাধারণ আসনের নির্বাচনেও মহিলাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় কোনো বাধা রাখা হয়নি। এ আসনগুলি দশ বছরের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়। জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে নারীদের উৎসাহিত করা এবং নারীর সম্ভাবনাময় নেতৃত্বের যোগ্যতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বঙ্গবন্ধু গ্রহণ করেছিলেন।

১৯৭৩ সালে দুজন নারীকে মন্ত্রীসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় তাঁর নারী মন্ত্রীদের মধ্যে  শিক্ষামন্ত্রী বদরুন্নেসা এবং অধ্যাপিকা নুরজাহান মোরশেদ উল্লেখযোগ্য। এবং তারা কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছিলেন। তিনি জাতিও সংসদে নারীদের জন্য নির্দিষ্ট আসন বরাদ্দের ওপর জোর দেন। পরবর্তীকালে তাঁর সুযোগ্য কন্যা দেশ রত্ন শেখ হাসিনা এ আসন ৫০ এ উন্নিত করেন।

বঙ্গবন্ধুর সরকারের সংবিধানের  দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি অধ্যায়ের ১৫নং ধারার (ঘ) উপধারায় সমাজের দুঃস্থ মানুষের পাশাপাশি বিধবাদের সামাজিক নিরাপত্তা বিধানের জন্য সরকারি সাহায্য লাভের অধিকারের কথা সংরক্ষিত করা হয়েছে।  ১৭নং ধারার (ক) উপধারায় একই পদ্ধতির গণমুখী ও সর্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করা এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত সকল বালক এবং বালিকার জন্য অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাদান ব্যবস্থা গ্রহনের কথাও বলা হয়েছে।  ১৮ (২) ধারায়রাষ্ট্র কর্তৃক পতিতা বৃত্তি বন্ধ করার যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে।

বীরাঙ্গনা ও যুদ্ধশিশুদের পুনর্বাসনে বঙ্গবন্ধু

স্বাধীনতা পরবর্তীকালে সদ্য স্বাধীন দেশে মুক্তিযুদ্ধের বীরাঙ্গনাদের যেভাবে হেয় প্রতিপন্ন , আশ্রয়হীন ,অসম্মান করা হচ্ছিলো সে সময় তাঁদের সামাজিক স্বীকৃতি, গ্রহণযোগ্যতা এবং সামাজিক সন্মান প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন।মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিতা নারীদের দিয়েছিলেনবীরাঙ্গনা’ উপাধিটি। করেছিলেন বীরাঙ্গনা ও যুদ্ধশিশুদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা।

৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে নারীদের ভূমিকা ছিল গৌরবোজ্জ্বল। কখনও সহযোদ্ধা হিসেবে কখনও সরাসরিএছাড়াও  অস্ত্রচালনা ও গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ, আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবাশুশ্রশ্বা,  তথ্য সরবরাহ , মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অর্থবস্ত্র ও ওষুধপত্র সংগ্রহ করে তাদের নিকট পৌঁছে দিয়েও যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে আমাদের নারীরা

মুক্তিযুদ্ধে পাকসেনা কর্তৃক ধর্ষিত হয়েছে প্রায় পাঁচ লক্ষ নারী।১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু পাবনার বেড়া উপজেলার বসন্তপুর গ্রামে যান বন্যা প্রতিরোধক বাঁধ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কয়েকজন নারী বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে পাক হানাদার বাহিনীর তাদের দোসরদের হাতে নির্যাতিত হওয়ার বর্বর, নিষ্ঠুর, ভয়ঙ্কর সব ঘটনার কথা বলেন। তাঁরা বঙ্গবন্ধুকে বলেনকিভাবে তারা স্বাধীন দেশে নিগৃহীত হচ্ছেনআত্মপরিচয়হীনতায় ভুগছেনআশ্রয়হীন হয়ে দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধুর চোখ টলমল করে উঠে। তাঁদের পুর্নবাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দেন বঙ্গবন্ধু। পরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বক্তৃতায় বঙ্গবন্ধু বলেন, আজ থেকে পাকবাহিনীর দ্বারা নির্যাতিতা মহিলারা সাধারণ মহিলা নয়তারা এখন থেকে বীরাঙ্গনা’ খেতাবে ভূষিত। কেননা দেশের জন্যই তাঁরা ইজ্জত দিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের চেয়ে তাদের অবদান কম নয় বরং কয়েক ধাপ উপরেযা আপনারা সবাই জানেনবুঝিয়ে বলতে হবে না। তাই তাদের বীরাঙ্গনার মর্যাদা দিতে হবে এবং যথারীতি সম্মান দেখাতে হবে। আর সেই সব স্বামী বা পিতাদের উদ্দেশ্যে আমি বলছি যেআপনারাও ধন্য। কেননা এ ধরনের ত্যাগী ও মহত স্ত্রীর স্বামী বা পিতা হয়েছেন। তোমরা বীরাঙ্গনাতোমরা আমাদের মা। মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিত নারীরা সেদিন থেকে বীরাঙ্গনা’ উপাধিতে ভূষিত হন।স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৪ বছর পর ২০১৫ সালের অক্টোবরে একাত্তরের পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসরদের হাতে নির্যাতিত বীরাঙ্গনাদের বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধে তাদের অসামান্য অবদানের বিশেষ স্বীকৃতিস্বরূপ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেন

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকহানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের নির্যাতনের ফলে গর্ভধারণ করা মায়েদের অনেকে গর্ভপাতের আশ্রয় নেন। তারপরও ১৯৭২ জুড়ে দেশে অনেক যুদ্ধশিশুর জন্ম হয়। বীরাঙ্গনা ও যুদ্ধশিশুদের গ্রহণে প্রস্তুত ছিল না সদ্য স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশের মানুষ। সম্মান ও সহানুভূতি পাবার বদলে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে বীরাঙ্গনারা সামাজিকভাবে নিগৃহীত, আশ্রয়হীন হয়ে পরে। এছাড়া ভয়ংকর নির্যাতনের মধ্য দিয়ে গর্ভধারণ করার ফলে জন্ম নেয়া এই শিশুদের গ্রহণের মানসিকতা ও লালন-পালনের সামর্থ্য অনেক নির্যাতিত মায়ের ছিল না। বঙ্গবন্ধু সরকার এ সময় বিদেশে যুদ্ধশিশুদের দত্তকের ব্যবস্থা করেন। ১৯৭২ সালে Bangladesh Abandoned Children (Special Provisions) Order, 1972 (P.O. No. 124 of 1972) জারি করা হয়।বাংলাদেশের পরিবার পরিকল্পনা সমিতিবাংলাদেশ সেন্ট্রাল অর্গানাইজেশন ফর রিহ্যাবিলিটেশনমাদার তেরেসার মিশনারিজ অব চ্যারিটির মাধ্যমে বহু যুদ্ধশিশুকে বিদেশে দত্তক দেয়া হয়। এই প্রতিষ্ঠানগুলো দত্তক হয়নি এমন শিশুদের বিভিন্ন শিশুসদনে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়(তথ্যসূত্রঃমুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভ, নিউইর্য়ক)

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু বীরাঙ্গনাদের সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার, সামাজিক সন্মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবং তাদের ত্যাগের স্বীকৃতিতে “নারী পুনর্বাসন বোর্ড ” গঠন করেন। নির্যাতিতা নারীদের পুনর্বাসন এবং আবাসনের জন্য এ বোর্ড গঠন হয়। ঢাকার ধানমণ্ডিতে যে পুনর্বাসন কেন্দ্রটি ছিল তা পরিচালনা করতেন বেগম মুজিব।তাঁদের জন্য আশ্রয় ও ভাতার ব্যবস্থা, কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান, নারীদের উৎপাদন মুখী কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত করা, যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, তাঁদের ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার জন্য বৃত্তিপ্রথা চালু সহ নানাবিধ কাজ  করেছিলেন। ঢাকার বেইলি রোডে চালু করা হয় সেক্রেটারিয়াল কোর্সমোহাম্মদপুরে সেলাই ও কারুশিল্প প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়সাভারে খোলা হয় পোলট্রি ফার্ম – এভাবে সারাদেশ বীরাঙ্গনাদের পুর্নবাসনের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও আবাসন সুবিধা সৃষ্টি করা হয়।

বঙ্গবন্ধু প্রথম পঞ্চবার্ষিক  (১৯৭৩ -১৯৭৮) পরিকল্পনা স্বাধীনতা যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্থ নারীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা, সমাজকল্যাণ বিভিন্ন কর্মসূচী গৃহীত হয়। নারী উন্নয়নকে গুরুত্ব দেয়ার পাশাপাশি এ খাতে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়। শহীদদের স্ত্রী ও কন্যাদের জন্য চাকরি ও ভাতার ব্যবস্থা করা হয়  , এছাড়াও  এ পরিকল্পনায় নারীদের অর্থনৈতিক কাজে নিয়োজিত করার উদ্দেশ্যে সর্বপ্রথম আন্তঃখাত উদ্যোগ নেয়া হয়। নারী পুনর্বাসন বোর্ডের দায়িত্ব ও কার্যপরিধি বৃদ্ধি পাওয়ায় ১৯৭৪ সালে বোর্ডকে পুনর্গঠিত করে সংসদের একটি একট এর মাধ্যমে নারী পুনর্বাসন ও কল্যাণ ফাউনডেশন এ রূপান্তর করা হয়।   

নারীদের সামাজিক সন্মান নিশ্চিতে গৃহীত পদক্ষেপ

বাংলার নারীদের সন্মান ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম নারী সংগঠন মহিলা সংস্থার ভিত্তি রচনা করেন। শিশু ও কিশোরীদের আত্নমর্যাদায়বোধ প্রতিষ্ঠা, দেশপ্রেম ও নৈতিকতার শিক্ষায় শিক্ষিত করতে বঙ্গবন্ধু পূর্ব পাকিস্তান গার্লস গাইড এসোসিয়েশনকে ঢেলে সাজান এবং পুনর্গঠিত করেন।

বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশে যৌতুক প্রথা উচ্ছেদের পদক্ষেপ নেন। তিনি বাংলার যুবকদের আহবান জানান তারা যেন কোন যৌতুক না নিয়ে একটি বেলি ফুলের মালা নিয়ে বধূবরণ করেন। বঙ্গবন্ধুর ডাকে তখন বহু তরুন যৌতুকের দাবী ত্যাগ করে বেলি ফুলের মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।

নারীদের উন্নতি ও অধিকার রক্ষার জন্য যেমন বহুবিবাহ রোধআধুনিক শিক্ষার ব্যবস্থামেয়েদের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধিপ্রজনন স্বাস্থ্য,সাংবিধানিক ও আইনগত অধিকার এবং নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ সহ আরও অনেক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু ঘাতকের হাতে অকালে জীবন দিতে হওয়ায় তাঁর এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অনেকটাই পিছিয়েছিল।বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডে দেশ ও জাতির যে ক্ষতি হয়েছে তা অপূরণীয়।বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশায় নারীর ক্ষমতায়ন , নারী উন্নয়নে রেখেছেন অসামান্য অবদান।

লেখকঃ যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাংবাদিক, লেখক