বিএনপির ভরাডুবি এবং আওয়ামীলীগের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারন

সাজিয়া স্নিগ্ধা:: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মোট ২৫৫ আসনে জয়ী হয়েছে সেই সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট লাভ করেছে ২৮৮ আসন। অপরদিকে ডঃ কামাল হোসেনের ঐক্যফ্রন্ট পায় ৭টি আসন যেখানে বিএনপি ঘরে ওঠে ৫টি আসন , অন্যরা ৩টি আসন। এই পরিসংখ্যান বলে দেয় বাংলদেশের সর্ব স্তরের জনগণের এককভাবে শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করেছে এবং বিএনপিকে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রত্যাখান করেছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগছে এত বিশাল ব্যবধানে পরাজয়ের কারন কি ? সাধারন জনগনের মতামতের বিশ্লেষণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং বিএনপির ভরাডুবির কারনসমূহ তুলে ধরা হলো

নির্বাচনী প্রস্তুতির অভাব ও জনবিচ্ছিন্নতা

দেশের জনগন কেন বিএনপিকে ভোট দিবে, ভোট দিলে দেশ ও জাতি কিভাবে লাভবান হবে এ ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা করতে ঐক্যফ্রন্ট কিংবা বিএনপিকে নির্বাচনী মাঠে একেবারেই দেখা যায়নি পক্ষান্তরে আওয়ামীলীগ গত কয়েক বছরে জনগনের দোরগোড়ায় পৌঁছে বিগত ১০ বছরের উন্নয়ন চিত্র এবং আগামীতে নির্বাচিত হলে কি কি উন্নয়ন পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে  সে সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য জনগনের মাঝে তুলে ধরতে দেখা গেছে। আগামী বার আওয়ামীলীগ দেশ সেবার সুযোগ পেলে দেশকে আন্তর্জাতিকভাবে কোথায় নিয়ে যাবে সে সম্পর্কেও জনগণকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছেব্যপক গন সংযোগ লক্ষ্য করা গেছে আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে।বিএনপি কিংবা ঐক্যফ্রন্ট তাদের পুরোটা সময়ই ব্যায় করেছে আওয়ামীলীগের অনর্থক সমালোচনা করে।দেশ ও জনগন কে প্রাধান্য না দিয়ে সারাক্ষণ ক্ষমতায় যাওয়ার চিন্তা এবং আওয়ামীলীগ কে দেশে এবং বিদেশে কিভাবে ছোট করা যায় সে সমালোচনায় মুখর থাকতে দেখা গেছে।প্রার্থীদের জনসংযোগ বলতে কিছুই ছিল না। পোস্টার , লিফলেট কিছুর ব্যবহার ই চোখে পরেনি।নির্বাচনে মনে হয়েছে বিএনপির নির্বাচনী কোন প্রস্তুতিই ছিল না।      

প্রার্থী বাছাইয়ে অনিয়ম, দুর্বলতা

নির্বাচনের পূর্বেই গত ১ বছরে আওয়ামীলীগ তাঁদের দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য বারবার জরীপ চালিয়েছে। কোন প্রার্থীর জনপ্রিয়তা বেশি, জনসংযোগে কে বেশি কাজ করছেন , কারো বিরুদ্ধে অন্য কোন অভিযোগ আছে কিনা তা নিয়ে বিভিন্ন জরিপ চালানো হয়েছে।কেউ কেউ দলীয় প্রার্থী বাছাইকে প্রভাবিত করতে প্রেস কনফারেন্স ,প্রকাশ্যে আওয়ামীলীগ সভাপতিকে অনুরোধ করেছেন কিন্তু আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা জরিপ ,জনসংযোগ, এলাকায় প্রার্থীর জনপ্রিয়তাকেই অধিক গুরুত্ব প্রদান করেছেন। অপরদিকে বিএনপি র মত এত বড় একটি দলের এ ধরনের কোন প্রস্তুতির কথা শোনা যায়নি।উপরন্তু বিএনপির ওপর নির্বাচন বানিজ্যের অভিযোগ এসেছে বারবার। একই আসনে ৩ জন নেতা কর্মীকে নমিনেশন ফর্ম কিনতে বলা হয়েছিল বিএনপির পক্ষ থেকে।পরবর্তীতে আমরা দেখেছি নমিনেশন দেয়ার পর বিএনপির বিক্ষুব্ধ নেতা কর্মীরা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে।শুধু তাই নয় বিএনপির অনেক পুরানো নেতা কর্মী হতাশা এবং ক্ষোভে প্রেস কনফারেন্স করে পদত্যাগও করেছেন।বিচার-বিবেচনা না করে প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। একইসঙ্গে যেসব প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছেন তারা গত ১০ বছর নির্বাচনী এলাকায়ও যাননি।যারা নির্বাচনে পাস করার মতো প্রার্থী তাদের মনোনয়ন না দিয়ে টাকা নিয়ে অন্যদের মনোনয়ন দিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে ধামরাইয়ের বিএনপির জনপ্রিয় নেতা জিয়াউর রহমাননারায়ণগঞ্জের তৈমুর আলম খন্দকার ও সিলেটের ইনাম আহমেদ চৌধুরীর মতো জনপ্রিয় নেতাদের মনোনয়ন না দিয়ে এমন কিছু নেতাদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছেযাদের এলাকার মানুষ চেনেই না।

নেতৃত্বের দুর্বলতা

বিএনপি দিকহারা এক রাজনৈতিক সংগঠনে পরিণত হয়েছে।চলছে নেতৃত্ব সংকট।দলের প্রধান  খালেদা জিয়া সাজাপ্রাপ্ত  আসামী । বর্তমানে জেলে কৃতকর্মের সাজা ভোগ করছেন খালেদা জিয়ার অবর্তমানে দল চালাচ্ছেন তারেক জিয়া। আরেকজন দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামীদীর্ঘদিন বিদেশে পলাতক আছেন কিন্তু তার নির্দেশ ছাড়া বিএনপির পাতাও নড়ছে না।স্কাইপি তে প্রার্থীদের ইন্টার্ভিউ নিয়েছেন। সমস্ত কলকাঠি নাড়ছেন কিন্তু মাঠে নেই। ঐক্যফ্রন্ট এর শরীক হয়েছেন কিন্তু একেক নেতা একেক সময় একেক কথা বলছেন , কেউ দায়িত্ব নিচ্ছেন না একজন আরেকজনের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন।কারো কাছেই সুস্পষ্ট কোন উত্তর নেই। আন্দোলন আন্দোলন করছেন কিন্তু কিসের আন্দোলন সেটিও সুস্পষ্ট করে জনগনের কাছে তুলে ধরতে পারেনিদলে কেউ কারো কথা শুনছেন না। লিক হওয়া বিভিন্ন অডিওর কথোপকথন নেতৃত্ব সংকট প্রকট ভাবে ভেসে উঠেছে সাধারন ভোটার দের কাছেকর্মীরাও বিভ্রান্ত প্রশ্ন সবার মনে, কে দলের নেতা? অপরদিকে আওয়ামীলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর নেতৃত্বের বলিষ্ঠটাদৃঢ়তা , দূরদর্শিতা চমৎকার ভাবে তুলে ধরেছেন। কথা কাজ দুটাতেই সামঞ্জস্য, সাধারন মানুষের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছেন।

সাংগঠনিক ঐক্য

এ নির্বাচনে আওয়ামীলীগকে দলীয় শৃঙ্খলা ছিল চোখে পরার মতন।আওয়ামীলীগের নমিনেশন দেয়া হয়নি এমন প্রার্থীরা বিরোধী হিসেবে দলের বিপক্ষে কাজ করেননি।মান অভিমান কিছু থাকলেও দলীয় প্রার্থীকে দলের সকল নেতা কর্মী সবাই সহযোগিতা করেছেন, কাজ করেছেন টিম হিসেবে। নির্বাচন নিয়ে আওয়ামীলীগের পরিকল্পনা ছিল সুদূরপ্রসারী।ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট কে কে থাকবেন, কোথায় থাকবেন, তাদের সঠিক ট্রেইনিং সবকিছুই করা হয়েছে সুশৃঙ্খলভাবে। অপরদিকে বিএনপিকে দেখা গেছে নিজেদের দীর্ঘদিনের নেতা কর্মীদের প্রাধান্য না দিয়ে শিবির থেকে পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দেয়ার পরিকল্পনা।যা পক্ষান্তরে দলীয় নেতা কর্মীদের নিরুৎসাহিত করেছে কেন্দ্রে যেতে, কাজ করতে। কয়েক জায়গায় বিএনপি থেকে কোন এজেন্টও নিয়োগ দেয়া হয়নি।  সাংগঠনিক ভাবে আওয়ামীলীগ বিএনপি কিংবা ঐক্যজোট থেকে ছিল অনেক বেশি শক্তিশালী এবং গোছানো।কর্মী এবং প্রার্থীদের নিয়ে মিটিং , আলাপ আলোচনা সবই হয়েছে নির্বাচনের আগে। অন্যদিকে বিএনপি কি আদৌ নির্বাচনে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল কিনা তা জনমনে বিরাট প্রশ্ন আঁকারে সামনে এসেছে।  বিএনপির নেতাদের ফাঁস হওয়ার ফোনালাপেই স্পষ্ট ছিল নির্বাচন নয় ,ক্ষমতায় যাওয়াই ছিল মুখ্য উদ্দেশ্য।বিএনপির নেতাদের গভীর ষড়যন্ত্রের নীল নকশা, পরিকল্পিতভাবে দেশের বিভিন্নস্থানে সন্ত্রাস-সহিংসতার মাধ্যমে একটি অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে হঠাৎ করেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ষড়যন্ত্রের কথাও ফাঁস হয়ে যায় এসব ফোনালাপে।

নির্বাচনী ইশতেহার

পশ্চিমা বিশ্বে নির্বাচনী ইশতেহার বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।বাংলাদেশের ইতিহাসে সেভাবে কখনই গুরুত্ব পায়নি কিন্তু আওয়ামীলীগ সরকার গত নির্বাচন থেকে এই  ধারার পরিবর্তন এনেছে।গত নির্বাচনে  আওয়ামীলীগের সকল প্রতিশ্রুতি তারা পুরন করেছে এবং যুগোপযোগী আরও নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এবারের নির্বাচনী প্রচারাভিযানে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী ইশতেহার দলের চিন্তা ও লক্ষ্য কর্মসূচীর সঙ্গে জনমানুষকে সম্পৃক্ত করে বাস্তবানুগ এবং বাস্তবায়নযোগ্য তাঁর ভবিষ্যত পরিকল্পনা ও কর্মসূচী ভোটারদের মাঝে তুলে ধরে জনগনের মনে ইতিবাচক আস্থার জায়গা তৈরি করতে পেরেছে।অন্যদিকে বিএনপির ইশতেহার ফাঁকা গুলির মত, বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন মনে হয়েছে।বিসিএস এর বয়স সীমা নিয়ে বিএনপির পরিকল্পনা সাধারন জনগনের হাস্যরসে পরিণত হয়েছে।     

তরুন  ভোটারদের আকৃষ্ট  

এবারের নির্বাচনে  নতুন ভোটার ছিল দুই কোটির উপরে। একটা বিশাল সংখ্যক ভোটার এবার জীবনে প্রথম ভোট দিয়েছেন।তাদেরকে নির্বাচনী ফ্যাক্টর বলে অবিহিত করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।গতানুগতিকের পরিবর্তে চমক সৃষ্টির মতো নির্বাচনী ইশতেহারতরুণ প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতে দেয়া নানা প্রতিশ্রুতি আর সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা দ্রুত সমাধানে শেখ হাসিনার অঙ্গীকার সামগ্রিকভাবেই আওয়ামী লীগের বিজয়ের অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করেছে।

জামাত জোট  

একাত্তরের পরাজিত শক্তির এ দেশীয় এজেন্টদের বাংলার জনগন অনেক আগেই বর্জন করেছে। ধর্মকে ব্যবহার করে, পাকিস্তানী ভাবধারার রাজনীতি যারা করে স্বাধীনতাবিরোধী উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠী ও সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিবন্ধন হারানো জামায়াতের সঙ্গে জোট বিএনপির ভরাডুবির অন্যতম কারন।  তাদের সাথে জোট করে বিএনপি সাধারন জনগনের মাঝে দল হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।প্রচুর টাকা ছড়িয়েও জামায়াতী চক্ররা একটি আসন তো দূরের কথাকোথাও তাদের জামানতও রক্ষা করতে পারেনি।একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্ট জামাতের ২৫ জনকে ধানের শীষে নমিনেশন দিয়েছে। ভোটের মাঠেই ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগন সাম্প্রদায়িকতাসন্ত্রাস,জঙ্গীবাদ ও উগ্র মৌলবাদকে ঘৃণার সাথে বর্জন করেছে।

কলঙ্কময় অতীত ইতিহাস

বিএনপি-জামায়াত জোটের পাঁচ বছরের দুঃশাসনদুর্নীতিঅওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলার জন্য ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের নারকীয় হত্যাকাণ্ড, জঙ্গীবাদের উত্থান, ৬৩ জেলায় একযোগে সিরিজ বোমা হামলা ,২০১৪ সালে নির্বাচন ঠেকানোর নামে দেশজুড়ে ভয়াল সন্ত্রাস,নাশকতা ও পুড়িয়ে শত শত মানুষকে হত্যা এ সকল ঘটনা  সাধারণ মানুষের মনের স্মৃতিপটে এখনও সতেজ। বাংলাদেশকে সেই আগের জায়গায় আর কেউ দেখতে চায় না। নতুন উদ্যমে নতুনের স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে চায়।বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সেক্ষেত্রে সফলতার সাথে সাধারন মানুষকে উজ্জেবিত করতে পেরেছে  সহিংসতা ও পেট্রোলবোমার রাজনীতি বর্জন করতে।    

উন্নয়ন বার্তা প্রচার

আওয়ামীলীগ সরকারের গত ১০ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশের প্রভূত উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। ভারতের সঙ্গে ঐতিহাসিক পানি বণ্টন চুক্তি,পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি চুক্তিসহ অসংখ্য ঐতিহাসিক কর্মকা- সম্পাদন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ, বিদ্যুতগ্যাসশিক্ষা, শিল্প ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষকে উপহার দিয়েছে সোনালি ভবিষ্যতের স্বপ্ন। দেশজ সম্পদমাথাপিছু আয়শিল্প-কৃষি ও সেবা খাতের উন্নয়নউন্নয়নের গতিশীলতানারী উন্নয়নস্বাস্থ্যসেবা,অবকাঠামোসড়ক ও পরিবহনযুব উন্নয়ননারীর ক্ষমতায়নঅবহেলিত জনপদ ও জনগোষ্ঠীর উন্নয়নসমুদ্র জয়সীমান্ত চুক্তির মাধ্যমে ছিটমহল সমস্যার সমাধানমানুষের দোরগোড়ায় প্রযুক্তি পৌঁছে দেয়ামহাকাশ বিজয়ডিজিটাল বাংলাদেশসামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নসর্বক্ষেত্রেই বাংলাদেশ হয়ে ওঠে বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। অন্ধকারের বদলে দেশ এখন এগিয়ে চলছে আলোর পথেযে সরকার জনসাধারণের জীবন মানের এত উন্নয়ন সাধন করেছে বাংলাদেশের এ যাবত ইতিহাসে তাঁদেরকে জনগন আবার দেশ সেবার সুযোগ দিবে এমনটা প্রত্যাশিত । দেশ যেমন উন্নত হয়েছে তেমনি উন্নয়নের বার্তা প্রচার দেশে বিদেশে ব্যাপক ভাবে হয়েছে। দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চলে দেশের সার্বিক উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে গেছে। এক্ষেত্রে দল হিসেবে আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক দক্ষতাই প্রমান করে।

 

সুশিল সমাজের সমর্থন

এবারের নির্বাচনে  উল্লেখযোগ্য দিক ছিল সুশীল সমাজের প্রতিনিধিশিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী, আইনজীবীসাবেক সামরিকবেসামরিক,আমলাপুলিশ বাহিনীর উর্ধতন কর্মকর্তা, সাংবাদিকব্যবসায়ী, সংস্কৃতিকর্মী,  সাহিত্যিক সহ দেশের প্রায় সর্ব স্তরের জনগন প্রকাশ্য মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলো।এবং সকলেই উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছিলেন একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী,বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের স্বজনদের পক্ষে থাকা বিএনপি-জামায়াত-যুক্তফ্রন্টকে ব্যালটের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যানের যা অতীতের কোন নির্বাচনে হয়নি। আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের মহাজয়ের পেছনে এটিও অন্যতম কারণ।

 

পরিশেষে , এবারের ব্যালট বিপ্লবে আওয়ামীলীগ সরকার চতুর্থবারের মতো এবং টানা হ্যাটট্রিকবার সরকার গঠন করেছে। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম সবচেয়ে বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নতুন সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন মহাজোট ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকিন্তু  আওয়ামীলীগ সরকারের প্রতি সাধারন মানুষ সহ বিশ্ববাসীর প্রত্যাশা অনেকগুন বেড়ে গেছে। গত ১০ বছরের উন্নয়নের পর মানুষ দেখতে চায় আওয়ামীলীগ সরকার দেশকে আরও কত দূর নিয়ে যেতে পারে।

সাজিয়া স্নিগ্ধা

ডিসেম্বর ২০১৮