শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারের প্রশংসনীয় সাফল্য

সাজিয়া স্নিগ্ধা

শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড ছেলেবেলায় এ বিষয়ে রচনাভাবসম্প্রসারন  অনেক পড়েছি সে সময় এ কথাটির তাৎপর্য যতটা না বুঝতাম আজকে উন্নত দেশে বসবাস করার সুবাদে এ কথাটির পরিপূর্ণ অর্থ ভীষণভাবে অনুধাবন করতে পেরেছি একটি দেশএকটি জাতি , একটি গোষ্ঠী সফল হতে হলেউন্নত হতে হলে শিক্ষার কোন বিকল্প নেইযে জাতি যত বেশি শিক্ষিত সে জাতি তত বেশি অগ্রসরউন্নত আত্ননির্ভরশীল জাতি হয়ে গড়ে উঠতে শিক্ষার বিকল্প নেইঅর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি যদি শিক্ষার উন্নয়ন না ঘটেসে অর্থনৈতিক উন্নয়ন স্থায়ী রূপ ধারন করতে পারে না।

প্রবাসে বসে যখন বাংলাদেশের উন্নয়নের জয়গান শুনিখুব ভাল লাগে গর্বে বুক ভরে যায় সবচাইতে বেশি আন্দোলিত হই শিক্ষার উন্নয়নেবাংলাদেশের প্রত্যান্ত মানুষের কাছে তিন বেলা পেট ভরে খাওয়া যেখানে একসময় স্বপ্নের বিষয় ছিল শিক্ষা তো সুদূর কল্পনা সেখানে আজকে বছরের প্রথম দিনেই সকল শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামুল্যে পৌঁছে যাচ্ছে নতুন বই। বাংলাদেশ সরকার এক অভূতপূর্ব সাফল্য দেখিয়েছে এ ক্ষেত্রে। নিরক্ষরতা দূরীকরণে অর্জিত করেছে অভাবিত সাফল্য। বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭৩% শতাংশ।যা সত্যি প্রশংসনীয়। বিশ্বে প্রাথমিক স্তর ও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থী ভর্তির সূচকে বাংলাদেশ এক নম্বরে। বাংলাদেশ সরকার চলতি অর্থবছরে জাতীয় বাজেটের একটি বড় অংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দিয়েছে।  শিক্ষাঙ্গনে শান্তিপূর্ণ অবস্থা, সেশন জটের কাল থাবার বিলুপ্তি, নিয়মিত ক্লাস, যথাসময়ে  ফাইনাল পরীক্ষা- শিক্ষাঙ্গনে যেমন পরিবেশ শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন তা সবগুলোই নিশ্চিত করছে সরকার।ফলে শিক্ষার্থীরা  পড়াশোনা শেষ করেই প্রবেশ করতে পারছে কর্মজীবনে।   

তথ্য প্রযুক্তির ছোঁয়া শুধুমাত্র বাঙ্গালীর প্রাত্যহিক জীবনে নয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতেও ছড়িয়েছে ব্যপক ভাবে। ৪০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তিগতভাবে সমৃদ্ধ হয়েছে ।জেনেছি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে  ২৩ হাজার মালটিমিডিয়া ক্লাস্রুম ,ডিজিটাল ল্যাব চালু করা হয়েছে মনে হল আমাদের সময় যদি এ সুবিধা পেতাম । বর্তমান সরকার তার ৯ বছরের শাসনকালে দেশের প্রায় শতভাগ শিশুকে প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার সাফল্য দেখিয়েছে। ৯ বছর আগে যেখানে প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থী ভর্তির হার ছিল ৬১ শতাংশবর্তমানে সেখানে প্রাথমিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় শতভাগ। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তির হার ছিল ৫১ শতাংশএখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ শতাংশ। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে ভর্তির হার ছিল ৩৩ শতাংশবর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ৫৫ শতাংশ।  

শিক্ষার দুইটি ধারা রয়েছে। ধর্মীয় শিক্ষা এবং আধুনিক শিক্ষা।ধর্মীয় শিক্ষা বলতে সাধারনত আমরা মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা বুঝি। আধুনিক শিক্ষা বলতে জাতি ধর্ম গোত্র নির্বিশেষে রাষ্ট্রীয় শিক্ষা ব্যবস্থা কে বুঝি।  অধিকাংশ দেশেই এ দুটি শিক্ষা ব্যবস্থা প্রচলিত।  সরকার দুটি শিক্ষা ব্যবস্থাকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে।সাধারন জনসাধারনের ইচ্ছে পছন্দের প্রাধান্য দিয়ে সমানতালে উন্নয়ন পরিকল্পনা করছে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের কার্যক্রম শুরু  হয়েছে।  বর্তমান সরকার মাদরাসা শিক্ষায় আধুনিকীকরণসহ যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত প্রজন্মকে  বিশিষ্ট আলেম-ওলামা-চিন্তাবিদ হওয়ার পাশাপাশি বাস্তব জীবনমুখী প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষমানব সম্পদে পরিণত করার পরিকল্পনাও গ্রহন করা হয়েছে।এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ৪৫ টি মাদ্রাসায় আইসিটি ল্যাব চালু করা হয়েছে। মাদ্রাসা বোর্ডের তত্ত¡াবধানে ইতোমধ্যে দেশে প্রায় ১০ হাজার মাদ্রাসায় ওয়েব পোর্টাল চালু করা হয়েছে। ৩৬ হাজার মিলিয়ন ডলার সহায়তায় মাদ্রাসার শিক্ষকদের জন্য আর বি স্পোকেন এবং আইসিটি ট্রেনিং কোর্স চালু করা হচ্ছে। মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়নে ইতোমধ্যে এক হাজার ১৩০টি ভবন তৈরি করা হয়েছে এবং আরো ২ হাজারটি নতুন ভবন তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষকদের সন্মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন এবং সাধারন শিক্ষকদের বেতন সমান করা হয়েছে। এখন স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং কলেজের অধ্যক্ষ যা বেতন পান ঠিক মাদ্রাসার সুপার এবং অধ্যক্ষ কলেজের অধ্যক্ষের সমান বেতন পেয়ে থাকেন। বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আরেকটি অসাধারন কাজ করেছেন। তাঁর নির্দেশেই দেশে একটি এফিলিয়েটিং আরবি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলেছে পুরদমে। ৩১টি মাদ্রাসায় অনার্স কোর্সও চালু  করা হয়েছে।

যে জাতি নারীদেরকে শিক্ষিত করে তুলতে পারেসে জাতির উন্নতি অবধারিত। বর্তমান সরকার শিক্ষা ক্ষেত্রে শুধুমাত্র মাদ্রাসা শিক্ষা এবং সাধারন শিক্ষার ওপর গুরুতারপ করছে না এ দেশের নারী সমাজকে সুশিক্ষা ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়ার সকল প্রস্তুতিও গ্রহন করছে।  শিক্ষায় নারী-পুরুষের সমতা অর্জনে সরকার অকালন্ত পরিশ্রম করছে।  রীতিমত ঈর্ষণীয় পর্যায়ে নিয়ে গেছে। প্রায় শতভাগ মেয়েই এখন স্কুলে যাচ্ছে। মেয়েদের জন্য বিদ্যালয়ে যে পরিবেশ থাকা দরকারসরকার তা নিশ্চিত করেছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতায় এখন ৬০ ভাগ নারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাংলাদেশ প্রথম স্থানে অবস্থান করছে।

গত কয়েকদিন আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটি কথা বলেছিলেন যে নয় বছরের উন্নয়নে বিশ্ব আজ বিস্মিত। বাংলাদেশের  উন্নয়নের ধারাটা এত দ্রুত গতিতে কিভাবে সম্ভব হয়েছে  বিশ্বনেতারা তাঁর কাছে কি  ম্যাজিক আছে সেটি জানতে চান।  আমরাও জানতে চাই কোন জাদুবলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা ক্ষেত্র কে অভূতপূর্ব সাফল্যের দোরগোড়ায় নিয়ে গেছেন। আমরা আশা করি এবং দোয়া করি এ সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখে বাংলাদেশ যেন ২০২১ সালের মধ্যে একটি মধ্যম আয়ের দেশ বলে বিবেচিত  হয় এবং শিক্ষার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ একটি মধ্যমানের শিক্ষিত দেশ হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি লাভ  করে।

১৭জুলাই ২০১৮

লেখকঃ যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাংবাদিক লেখক