হাউজ অব লর্ডসে শেখ হাসিনা সরকারের গত ১০ বছরের উন্নয়ন আলোচনা

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান স্টাডি সার্কেলের আয়োজনে সম্প্রতি হাউজ অব লর্ডসের ঐতিহাসিক এটলে রুমে অনুষ্ঠিত হল বাংলাদেশের গত ১০ বছরের উন্নয়ন নিয়ে “বাংলাদেশ এ গোল্ডেন জার্নি টু ডেভেলপমেন্ট ” শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান।
স্টাডি সার্কেলের চেয়ারপার্সন সৈয়দ মোজাম্মেল আলীর সভাপতিত্বে এবং স্টাডি সার্কেলের গবেষক সাজিয়া স্নিগ্ধার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্পীকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাউজ অব লর্ডসের সদস্য ব্যারোনেস মঞ্জিলা পলা উদ্দিন,পপলার লাইম হাউজের এমপি জিম ফিটজ প্যাট্রিক, ব্রেনট কাউন্সিলের এমপি শ্যাডো ওমেন এন্ড ইকুয়ালিটি সেক্রেটারি ডওন বাটলার এমপি , বাংলাদেশ হাই কমিশন লন্ডনের হাই কমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম এবং বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।
স্টাডি সার্কেলের চেয়ারপার্সন সৈয়দ মোজাম্মেল আলী স্বাগত বক্তব্যে বলেন বাংলাদেশের যে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে তা প্রবাসীদের কাছে এবং আমাদের বন্ধু রাষ্ট্রের কাছে তুলে ধরার প্রয়াসে স্টাডি সার্কেলের এর যাত্রা এবং আজকের এ আয়োজন।তিনি জানান ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সাড়ে ছয়শ এমপির কাছে বাংলাদেশের উন্নয়নের গল্পগাথা ইতিমধ্যে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।
সভাপতির স্বাগত বক্তব্যের পরেই স্পীকাররা বাংলাদেশের উন্নয়ন চিত্র নিয়ে তাঁদের মতামত উপস্থাপন করেন। হাউজ অব লর্ডসের সদস্য ব্যারোনেস মঞ্জিলা পলা উদ্দিন স্টাডি সার্কেলের প্রকাশনা বাংলাদেশ এ গোল্ডেন জার্নি টু ডেভেলপমেন্ট” এর ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন এত দ্রুত সময় বাংলাদেশের উন্নয়ন বিশ্বে অন্যন্য দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছে।
লেবার পার্টির সিনিয়র এমপি জিম ফিটজপ্যাট্রিকস বলেন, নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য উন্নয়নের নজির স্থাপন করেছে। বিভিন্ন খাতে সম্প্রতি বাংলাদেশের উন্নয়নকে ‘গোল্ডেন ডেভেলপমেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ‘গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ’ শীর্ষক সর্বশেষ রিপোর্টে একই অভিমত তুলে ধরা হয়েছে। এই রিপোর্টে নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষ এবং বৈশ্বিক সূচকে ৫ম অবস্থানে রয়েছে।
ব্রেনট কাউন্সিলের এমপি শ্যাডো ওমেন এন্ড ইকুয়ালিটি সেক্রেটারি ডওন বাটলার এমপি বলেন, উন্নয়ন বিশেষ করে দ্রুত ও অব্যাহত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন, কমিউনিটি হেলথ কেয়ার এবং অবকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই অনেক দেশের রোল মডেল হয়ে উঠেছে।বিশেষ করে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নারী পুরুষের সমতায়।
বাংলাদেশ হাই কমিশন লন্ডনের হাই কমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, বিশ্বের থিনট্যাঙ্কদের কাছে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের বিস্ময়। যা শেখ হাসিনার সাহসী ও দূরদৃষ্টি সম্পন্ন নেতৃত্বের কারণে সম্ভব হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের হাউস অব লর্ডসে এক বৈঠকে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক গত ১০ বছরে বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং জনসাধারনের সুবিধার জন্য সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরেন।
স্পীকারদের বক্তব্যের পরেই শুরু হয় আগত অতিথিদের নিয়ে এক মুক্ত আলোচনা সভার।মুক্ত আলোচনায় ক্লাইমেট চেঞ্জ , রোহিঙ্গা ইস্যু সহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।
আলোচনা শেষে স্টাডি সার্কেলের সমন্বয়ক জামাল খান আলোচনা অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করে সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং এ ধরনের আয়োজন স্টাডি সার্কেলের পক্ষ থেকে নিয়মিত করার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে আর যোগ দেন ছিলেন ইউনাইটেড নেশনের সাংবাদিক মিস ক্লার্ক , সাবেক মেয়র এবং কাউন্সিলার পারভেজ আহমেদ, সাবেক কাউন্সিলার মুরাদ কোরেশী এম এল , কাউন্সিলার দিলআর আলী, ইস্ট বর্ণ কাউনটি কাউন্সিলের মজমিল হুসেন, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব শামসুদ্দিন খান, সুলতান মাহমুদ শরীফ, জালাল উদ্দিন, এম এ হাশেম, আব্দুল আহাদ চৌধুরী,মিসবা সাদাত, নাজিম করিম, খালেদ জয়, আব্দুল বাসির, মাহমুদা মনি এড ইয়াদিয়া জামান সহ বিশিষ্ট কয়েকজন ব্রিটিশ পার্লামেন্টারিয়ান, ব্রিটিশ-বাংলাদেশী শিক্ষাবিদ এবং রাজনীতিবিদ , কমিউনিটি নেতা, সাংবাদিক ও উন্নয়নকর্মী।