নারীর ক্ষমতায়ন , নারী অধিকার রক্ষায় বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা  

সাজিয়া স্নিগ্ধা

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানএ নাম মুখে নিলেই শ্রদ্ধায় অবনমিত হয় প্রতিটি বাঙ্গালীর হৃদয়।আমাদের পরম ভালবাসার , পরম শ্রদ্ধার মানুষ তিনিশত বছরের শোষণ বঞ্চনা, নির্যাতন নিপীড়নের হাত থেকে বাঙ্গালীকে মুক্ত করেছিলেন বঙ্গবন্ধু।বিশ্ব মানচিত্রে উপহার দিয়েছেন স্বাধীন সার্বভৌম নতুন জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশ।জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত ছিলেন আপোষহীন। তিনি শুধু বাঙালির নেতা ননবিশ্ববাসীর কাছেও একজন মহান ব্যক্তিত্ব।বিশ্ব নেতৃত্ব বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ছিলেন বিস্মিত , মুগ্ধ। ফিদেল ক্যাস্ট্রো বঙ্গবন্ধুকে হিমালয়ের সাথে তুলনা করেছিলেনহেনরি কিসিঞ্জার বলেছিলেন “আওয়ামীলীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের মত তেজী এবং গতিশীল নেতা আগামী বিশ বছরের মধ্যে এশিয়া মহাদেশে আর পাওয়া যাবে না।”

বঙ্গবন্ধুর জীবনচরিত আজো বিশ্ববাসীর কাছে অনুকরণীয়,অনুসরণীয়।তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি সিদ্ধান্তে ছিল বিচক্ষণতা, দূরদর্শিতা, মেধা, মহানুভবতা এবং প্রজ্ঞার ছাপ।  বঙ্গবন্ধুর সকল ভাষণকর্মকান্ডশাসনপ্রণালীমুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের খেতাবপ্রদান ও জীবনচরিত বিশ্লেষণে সুস্পষ্ট হয়তিনি সারাজীবন বৈষম্যমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র গড়তে সংগ্রাম করেছেন। কিন্তু তাঁর সমাজ সংস্কার বিশেষ করে নারী অধিকার রক্ষায় তাঁর বিশাল ভূমিকা খুব একটা আলোচিত নয়। নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারীর সামাজিক অধিকার,  সন্মানের ব্যপারে বঙ্গবন্ধু প্রথম থেকেই অত্যন্ত সচেতন ছিলেন।

রাজনীতিতে নারীর ক্ষমতায়নে বঙ্গবন্ধু

ছয় দফার আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হওয়ার আগে আমেনা বেগমকে (১৯২৫-১৯৮৯)   দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের পদে মনোনয়ন দেন এবং ওই বছর ২৭ জুলাই আমেনা বেগমকে দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই সময় আওয়ামীলীগের কোন কোন প্রবীণ পুরুষ নেতা আপত্তি তুলেছিলেন। বলেছিলেন, এই সংগ্রামের চরম মুহূর্তে একজন নারীকে দলের নেতৃত্ব দিলে হয়ত সাধারণ মানুষ সারা দিবে না। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, নারীদেরও পুরুষদের মত সমান অধিকার এবং তা রাজনীতির ক্ষেত্রেও। আওয়ামীলীগ যেমন অসাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাস করে তেমনি নর নারীর সমান অধিকারেও বিশ্বাস করে। আওয়ামীলীগেও নারী নেতৃত্ব গড়ে তোলা দরকার।

বঙ্গবন্ধু তাঁর সংগ্রামী রাজনীতিতে নিজের সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবকেও জড়িয়েছিলেন।তিনি জেলে থাকতে বেগম মুজিব দলের নেতাদের সাহায্য ও পরামর্শ যোগাতেন।মায়া মমতা ভালোবাসা দিয়ে দলের মানুষদের যেমন আঁকরে রাখতেন তেমনি বঙ্গবন্ধুকে বিভিন্ন দুর্যোগপূর্ণ সময়ে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করতেন  শুধু  ছেলেদের নয় নিজের দুই মেয়েকেও পিতার আদর্শে গড়ে তুলেছিলেন বেগম মুজিবযার ফলে আজ আমরা জননেত্রী শেখ হাসিনার মতো একজন আদর্শিক নেত্রীকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রনায়ক  হিসেবে পেয়েছি।   

নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার তাগিদ বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রেও আমরা লক্ষ্য করেছি।  বঙ্গবন্ধু তাঁর মন্ত্রীসভায় নারী সদস্য গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন। নারীর প্রশাসনিক ক্ষমতায়ন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ পর্যায়ে নারীর অন্তর্ভুক্তি তথা উন্নয়নের মুল্ধারায় নারীকে সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্যে ১৯৭২ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

১৯৭২ সালে প্রণীত প্রথম ও মূল সংবিধান এবং পরবর্তীতে কয়েকটি সংশোধনীতে নারীদের বাড়তি সুযোগ সুবিধা ও সংরক্ষিত অধিকার দেওয়ার কথা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সংযোজন করা হয়েছে। বাংলাদেশে নারী পুরুষের সরকারি চাকরি ও কর্মে সমান অধিকার নিশ্চিত করে সংবিধান প্রণয়ন করা হয়। সংবিধান কেবলমাত্র নারী পুরুষের সমতাই নিশ্চিত করে নিএছাড়াও সরকারি চাকরির নির্দিষ্ট আনুপাতিক সংখ্যক পদ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত রাখার মাধ্যমে বিদ্যমান অসম প্রতিনিধিত্ব নিরসনের প্রয়োজনীয়তাও স্বীকার করে। সংবিধানে সরকারি চাকুরিতে মেয়েদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে দিয়ে সব ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ অবারিত করে ১০ ভাগ কোটা সংরক্ষণ করা হয়। সংবিধান জাতীয় সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য ৬৫নং ধারার মাধ্যমে সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা করেছে।১৯৭৩ সালে সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা ছিল ১৫ টি।সাধারণ আসনের নির্বাচনেও মহিলাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় কোনো বাধা রাখা হয়নি। এ আসনগুলি দশ বছরের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়। জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে নারীদের উৎসাহিত করা এবং নারীর সম্ভাবনাময় নেতৃত্বের যোগ্যতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বঙ্গবন্ধু গ্রহণ করেছিলেন।

১৯৭৩ সালে দুজন নারীকে মন্ত্রীসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় তাঁর নারী মন্ত্রীদের মধ্যে  শিক্ষামন্ত্রী বদরুন্নেসা এবং অধ্যাপিকা নুরজাহান মোরশেদ উল্লেখযোগ্য। এবং তারা কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছিলেন। তিনি জাতিও সংসদে নারীদের জন্য নির্দিষ্ট আসন বরাদ্দের ওপর জোর দেন। পরবর্তীকালে তাঁর সুযোগ্য কন্যা দেশ রত্ন শেখ হাসিনা এ আসন ৫০ এ উন্নিত করেন।

বঙ্গবন্ধুর সরকারের সংবিধানের  দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি অধ্যায়ের ১৫নং ধারার (ঘ) উপধারায় সমাজের দুঃস্থ মানুষের পাশাপাশি বিধবাদের সামাজিক নিরাপত্তা বিধানের জন্য সরকারি সাহায্য লাভের অধিকারের কথা সংরক্ষিত করা হয়েছে।  ১৭নং ধারার (ক) উপধারায় একই পদ্ধতির গণমুখী ও সর্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করা এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত সকল বালক এবং বালিকার জন্য অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাদান ব্যবস্থা গ্রহনের কথাও বলা হয়েছে।  ১৮ (২) ধারায়রাষ্ট্র কর্তৃক পতিতা বৃত্তি বন্ধ করার যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে।

বীরাঙ্গনা ও যুদ্ধশিশুদের পুনর্বাসনে বঙ্গবন্ধু

স্বাধীনতা পরবর্তীকালে সদ্য স্বাধীন দেশে মুক্তিযুদ্ধের বীরাঙ্গনাদের যেভাবে হেয় প্রতিপন্ন , আশ্রয়হীন ,অসম্মান করা হচ্ছিলো সে সময় তাঁদের সামাজিক স্বীকৃতি, গ্রহণযোগ্যতা এবং সামাজিক সন্মান প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন।মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিতা নারীদের দিয়েছিলেনবীরাঙ্গনা’ উপাধিটি। করেছিলেন বীরাঙ্গনা ও যুদ্ধশিশুদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা।

৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে নারীদের ভূমিকা ছিল গৌরবোজ্জ্বল। কখনও সহযোদ্ধা হিসেবে কখনও সরাসরিএছাড়াও  অস্ত্রচালনা ও গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ, আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবাশুশ্রশ্বা,  তথ্য সরবরাহ , মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অর্থবস্ত্র ও ওষুধপত্র সংগ্রহ করে তাদের নিকট পৌঁছে দিয়েও যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে আমাদের নারীরা

মুক্তিযুদ্ধে পাকসেনা কর্তৃক ধর্ষিত হয়েছে প্রায় পাঁচ লক্ষ নারী।১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু পাবনার বেড়া উপজেলার বসন্তপুর গ্রামে যান বন্যা প্রতিরোধক বাঁধ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কয়েকজন নারী বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে পাক হানাদার বাহিনীর তাদের দোসরদের হাতে নির্যাতিত হওয়ার বর্বর, নিষ্ঠুর, ভয়ঙ্কর সব ঘটনার কথা বলেন। তাঁরা বঙ্গবন্ধুকে বলেনকিভাবে তারা স্বাধীন দেশে নিগৃহীত হচ্ছেনআত্মপরিচয়হীনতায় ভুগছেনআশ্রয়হীন হয়ে দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধুর চোখ টলমল করে উঠে। তাঁদের পুর্নবাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দেন বঙ্গবন্ধু। পরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বক্তৃতায় বঙ্গবন্ধু বলেন, আজ থেকে পাকবাহিনীর দ্বারা নির্যাতিতা মহিলারা সাধারণ মহিলা নয়তারা এখন থেকে বীরাঙ্গনা’ খেতাবে ভূষিত। কেননা দেশের জন্যই তাঁরা ইজ্জত দিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের চেয়ে তাদের অবদান কম নয় বরং কয়েক ধাপ উপরেযা আপনারা সবাই জানেনবুঝিয়ে বলতে হবে না। তাই তাদের বীরাঙ্গনার মর্যাদা দিতে হবে এবং যথারীতি সম্মান দেখাতে হবে। আর সেই সব স্বামী বা পিতাদের উদ্দেশ্যে আমি বলছি যেআপনারাও ধন্য। কেননা এ ধরনের ত্যাগী ও মহত স্ত্রীর স্বামী বা পিতা হয়েছেন। তোমরা বীরাঙ্গনাতোমরা আমাদের মা। মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিত নারীরা সেদিন থেকে বীরাঙ্গনা’ উপাধিতে ভূষিত হন।স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৪ বছর পর ২০১৫ সালের অক্টোবরে একাত্তরের পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসরদের হাতে নির্যাতিত বীরাঙ্গনাদের বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধে তাদের অসামান্য অবদানের বিশেষ স্বীকৃতিস্বরূপ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেন

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকহানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের নির্যাতনের ফলে গর্ভধারণ করা মায়েদের অনেকে গর্ভপাতের আশ্রয় নেন। তারপরও ১৯৭২ জুড়ে দেশে অনেক যুদ্ধশিশুর জন্ম হয়। বীরাঙ্গনা ও যুদ্ধশিশুদের গ্রহণে প্রস্তুত ছিল না সদ্য স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশের মানুষ। সম্মান ও সহানুভূতি পাবার বদলে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে বীরাঙ্গনারা সামাজিকভাবে নিগৃহীত, আশ্রয়হীন হয়ে পরে। এছাড়া ভয়ংকর নির্যাতনের মধ্য দিয়ে গর্ভধারণ করার ফলে জন্ম নেয়া এই শিশুদের গ্রহণের মানসিকতা ও লালন-পালনের সামর্থ্য অনেক নির্যাতিত মায়ের ছিল না। বঙ্গবন্ধু সরকার এ সময় বিদেশে যুদ্ধশিশুদের দত্তকের ব্যবস্থা করেন। ১৯৭২ সালে Bangladesh Abandoned Children (Special Provisions) Order, 1972 (P.O. No. 124 of 1972) জারি করা হয়।বাংলাদেশের পরিবার পরিকল্পনা সমিতিবাংলাদেশ সেন্ট্রাল অর্গানাইজেশন ফর রিহ্যাবিলিটেশনমাদার তেরেসার মিশনারিজ অব চ্যারিটির মাধ্যমে বহু যুদ্ধশিশুকে বিদেশে দত্তক দেয়া হয়। এই প্রতিষ্ঠানগুলো দত্তক হয়নি এমন শিশুদের বিভিন্ন শিশুসদনে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়(তথ্যসূত্রঃমুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভ, নিউইর্য়ক)

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু বীরাঙ্গনাদের সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার, সামাজিক সন্মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবং তাদের ত্যাগের স্বীকৃতিতে “নারী পুনর্বাসন বোর্ড ” গঠন করেন। নির্যাতিতা নারীদের পুনর্বাসন এবং আবাসনের জন্য এ বোর্ড গঠন হয়। ঢাকার ধানমণ্ডিতে যে পুনর্বাসন কেন্দ্রটি ছিল তা পরিচালনা করতেন বেগম মুজিব।তাঁদের জন্য আশ্রয় ও ভাতার ব্যবস্থা, কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান, নারীদের উৎপাদন মুখী কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত করা, যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, তাঁদের ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার জন্য বৃত্তিপ্রথা চালু সহ নানাবিধ কাজ  করেছিলেন। ঢাকার বেইলি রোডে চালু করা হয় সেক্রেটারিয়াল কোর্সমোহাম্মদপুরে সেলাই ও কারুশিল্প প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়সাভারে খোলা হয় পোলট্রি ফার্ম – এভাবে সারাদেশ বীরাঙ্গনাদের পুর্নবাসনের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও আবাসন সুবিধা সৃষ্টি করা হয়।

বঙ্গবন্ধু প্রথম পঞ্চবার্ষিক  (১৯৭৩ -১৯৭৮) পরিকল্পনা স্বাধীনতা যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্থ নারীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা, সমাজকল্যাণ বিভিন্ন কর্মসূচী গৃহীত হয়। নারী উন্নয়নকে গুরুত্ব দেয়ার পাশাপাশি এ খাতে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়। শহীদদের স্ত্রী ও কন্যাদের জন্য চাকরি ও ভাতার ব্যবস্থা করা হয়  , এছাড়াও  এ পরিকল্পনায় নারীদের অর্থনৈতিক কাজে নিয়োজিত করার উদ্দেশ্যে সর্বপ্রথম আন্তঃখাত উদ্যোগ নেয়া হয়। নারী পুনর্বাসন বোর্ডের দায়িত্ব ও কার্যপরিধি বৃদ্ধি পাওয়ায় ১৯৭৪ সালে বোর্ডকে পুনর্গঠিত করে সংসদের একটি একট এর মাধ্যমে নারী পুনর্বাসন ও কল্যাণ ফাউনডেশন এ রূপান্তর করা হয়।   

নারীদের সামাজিক সন্মান নিশ্চিতে গৃহীত পদক্ষেপ

বাংলার নারীদের সন্মান ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম নারী সংগঠন মহিলা সংস্থার ভিত্তি রচনা করেন। শিশু ও কিশোরীদের আত্নমর্যাদায়বোধ প্রতিষ্ঠা, দেশপ্রেম ও নৈতিকতার শিক্ষায় শিক্ষিত করতে বঙ্গবন্ধু পূর্ব পাকিস্তান গার্লস গাইড এসোসিয়েশনকে ঢেলে সাজান এবং পুনর্গঠিত করেন।

বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশে যৌতুক প্রথা উচ্ছেদের পদক্ষেপ নেন। তিনি বাংলার যুবকদের আহবান জানান তারা যেন কোন যৌতুক না নিয়ে একটি বেলি ফুলের মালা নিয়ে বধূবরণ করেন। বঙ্গবন্ধুর ডাকে তখন বহু তরুন যৌতুকের দাবী ত্যাগ করে বেলি ফুলের মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।

নারীদের উন্নতি ও অধিকার রক্ষার জন্য যেমন বহুবিবাহ রোধআধুনিক শিক্ষার ব্যবস্থামেয়েদের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধিপ্রজনন স্বাস্থ্য,সাংবিধানিক ও আইনগত অধিকার এবং নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ সহ আরও অনেক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু ঘাতকের হাতে অকালে জীবন দিতে হওয়ায় তাঁর এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অনেকটাই পিছিয়েছিল।বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডে দেশ ও জাতির যে ক্ষতি হয়েছে তা অপূরণীয়।বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশায় নারীর ক্ষমতায়ন , নারী উন্নয়নে রেখেছেন অসামান্য অবদান।

লেখকঃ যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাংবাদিক, লেখক

শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারের প্রশংসনীয় সাফল্য

সাজিয়া স্নিগ্ধা

শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড ছেলেবেলায় এ বিষয়ে রচনাভাবসম্প্রসারন  অনেক পড়েছি সে সময় এ কথাটির তাৎপর্য যতটা না বুঝতাম আজকে উন্নত দেশে বসবাস করার সুবাদে এ কথাটির পরিপূর্ণ অর্থ ভীষণভাবে অনুধাবন করতে পেরেছি একটি দেশএকটি জাতি , একটি গোষ্ঠী সফল হতে হলেউন্নত হতে হলে শিক্ষার কোন বিকল্প নেইযে জাতি যত বেশি শিক্ষিত সে জাতি তত বেশি অগ্রসরউন্নত আত্ননির্ভরশীল জাতি হয়ে গড়ে উঠতে শিক্ষার বিকল্প নেইঅর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি যদি শিক্ষার উন্নয়ন না ঘটেসে অর্থনৈতিক উন্নয়ন স্থায়ী রূপ ধারন করতে পারে না।

প্রবাসে বসে যখন বাংলাদেশের উন্নয়নের জয়গান শুনিখুব ভাল লাগে গর্বে বুক ভরে যায় সবচাইতে বেশি আন্দোলিত হই শিক্ষার উন্নয়নেবাংলাদেশের প্রত্যান্ত মানুষের কাছে তিন বেলা পেট ভরে খাওয়া যেখানে একসময় স্বপ্নের বিষয় ছিল শিক্ষা তো সুদূর কল্পনা সেখানে আজকে বছরের প্রথম দিনেই সকল শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামুল্যে পৌঁছে যাচ্ছে নতুন বই। বাংলাদেশ সরকার এক অভূতপূর্ব সাফল্য দেখিয়েছে এ ক্ষেত্রে। নিরক্ষরতা দূরীকরণে অর্জিত করেছে অভাবিত সাফল্য। বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭৩% শতাংশ।যা সত্যি প্রশংসনীয়। বিশ্বে প্রাথমিক স্তর ও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থী ভর্তির সূচকে বাংলাদেশ এক নম্বরে। বাংলাদেশ সরকার চলতি অর্থবছরে জাতীয় বাজেটের একটি বড় অংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দিয়েছে।  শিক্ষাঙ্গনে শান্তিপূর্ণ অবস্থা, সেশন জটের কাল থাবার বিলুপ্তি, নিয়মিত ক্লাস, যথাসময়ে  ফাইনাল পরীক্ষা- শিক্ষাঙ্গনে যেমন পরিবেশ শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন তা সবগুলোই নিশ্চিত করছে সরকার।ফলে শিক্ষার্থীরা  পড়াশোনা শেষ করেই প্রবেশ করতে পারছে কর্মজীবনে।   

তথ্য প্রযুক্তির ছোঁয়া শুধুমাত্র বাঙ্গালীর প্রাত্যহিক জীবনে নয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতেও ছড়িয়েছে ব্যপক ভাবে। ৪০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তিগতভাবে সমৃদ্ধ হয়েছে ।জেনেছি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে  ২৩ হাজার মালটিমিডিয়া ক্লাস্রুম ,ডিজিটাল ল্যাব চালু করা হয়েছে মনে হল আমাদের সময় যদি এ সুবিধা পেতাম । বর্তমান সরকার তার ৯ বছরের শাসনকালে দেশের প্রায় শতভাগ শিশুকে প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার সাফল্য দেখিয়েছে। ৯ বছর আগে যেখানে প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থী ভর্তির হার ছিল ৬১ শতাংশবর্তমানে সেখানে প্রাথমিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় শতভাগ। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তির হার ছিল ৫১ শতাংশএখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ শতাংশ। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে ভর্তির হার ছিল ৩৩ শতাংশবর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ৫৫ শতাংশ।  

শিক্ষার দুইটি ধারা রয়েছে। ধর্মীয় শিক্ষা এবং আধুনিক শিক্ষা।ধর্মীয় শিক্ষা বলতে সাধারনত আমরা মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা বুঝি। আধুনিক শিক্ষা বলতে জাতি ধর্ম গোত্র নির্বিশেষে রাষ্ট্রীয় শিক্ষা ব্যবস্থা কে বুঝি।  অধিকাংশ দেশেই এ দুটি শিক্ষা ব্যবস্থা প্রচলিত।  সরকার দুটি শিক্ষা ব্যবস্থাকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে।সাধারন জনসাধারনের ইচ্ছে পছন্দের প্রাধান্য দিয়ে সমানতালে উন্নয়ন পরিকল্পনা করছে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের কার্যক্রম শুরু  হয়েছে।  বর্তমান সরকার মাদরাসা শিক্ষায় আধুনিকীকরণসহ যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত প্রজন্মকে  বিশিষ্ট আলেম-ওলামা-চিন্তাবিদ হওয়ার পাশাপাশি বাস্তব জীবনমুখী প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষমানব সম্পদে পরিণত করার পরিকল্পনাও গ্রহন করা হয়েছে।এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ৪৫ টি মাদ্রাসায় আইসিটি ল্যাব চালু করা হয়েছে। মাদ্রাসা বোর্ডের তত্ত¡াবধানে ইতোমধ্যে দেশে প্রায় ১০ হাজার মাদ্রাসায় ওয়েব পোর্টাল চালু করা হয়েছে। ৩৬ হাজার মিলিয়ন ডলার সহায়তায় মাদ্রাসার শিক্ষকদের জন্য আর বি স্পোকেন এবং আইসিটি ট্রেনিং কোর্স চালু করা হচ্ছে। মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়নে ইতোমধ্যে এক হাজার ১৩০টি ভবন তৈরি করা হয়েছে এবং আরো ২ হাজারটি নতুন ভবন তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষকদের সন্মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন এবং সাধারন শিক্ষকদের বেতন সমান করা হয়েছে। এখন স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং কলেজের অধ্যক্ষ যা বেতন পান ঠিক মাদ্রাসার সুপার এবং অধ্যক্ষ কলেজের অধ্যক্ষের সমান বেতন পেয়ে থাকেন। বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আরেকটি অসাধারন কাজ করেছেন। তাঁর নির্দেশেই দেশে একটি এফিলিয়েটিং আরবি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলেছে পুরদমে। ৩১টি মাদ্রাসায় অনার্স কোর্সও চালু  করা হয়েছে।

যে জাতি নারীদেরকে শিক্ষিত করে তুলতে পারেসে জাতির উন্নতি অবধারিত। বর্তমান সরকার শিক্ষা ক্ষেত্রে শুধুমাত্র মাদ্রাসা শিক্ষা এবং সাধারন শিক্ষার ওপর গুরুতারপ করছে না এ দেশের নারী সমাজকে সুশিক্ষা ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়ার সকল প্রস্তুতিও গ্রহন করছে।  শিক্ষায় নারী-পুরুষের সমতা অর্জনে সরকার অকালন্ত পরিশ্রম করছে।  রীতিমত ঈর্ষণীয় পর্যায়ে নিয়ে গেছে। প্রায় শতভাগ মেয়েই এখন স্কুলে যাচ্ছে। মেয়েদের জন্য বিদ্যালয়ে যে পরিবেশ থাকা দরকারসরকার তা নিশ্চিত করেছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতায় এখন ৬০ ভাগ নারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাংলাদেশ প্রথম স্থানে অবস্থান করছে।

গত কয়েকদিন আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটি কথা বলেছিলেন যে নয় বছরের উন্নয়নে বিশ্ব আজ বিস্মিত। বাংলাদেশের  উন্নয়নের ধারাটা এত দ্রুত গতিতে কিভাবে সম্ভব হয়েছে  বিশ্বনেতারা তাঁর কাছে কি  ম্যাজিক আছে সেটি জানতে চান।  আমরাও জানতে চাই কোন জাদুবলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা ক্ষেত্র কে অভূতপূর্ব সাফল্যের দোরগোড়ায় নিয়ে গেছেন। আমরা আশা করি এবং দোয়া করি এ সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখে বাংলাদেশ যেন ২০২১ সালের মধ্যে একটি মধ্যম আয়ের দেশ বলে বিবেচিত  হয় এবং শিক্ষার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ একটি মধ্যমানের শিক্ষিত দেশ হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি লাভ  করে।

১৭জুলাই ২০১৮

লেখকঃ যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাংবাদিক লেখক  

গত নয় বছরে যোগাযোগ খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন

সাজিয়া স্নিগ্ধা

পর্ব ১

যে কোন দেশের সার্বিক উন্নয়নের চাবিকাঠি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে সে দেশের ব্যবসা বানিজ্য , কৃষি , শিক্ষা, চিকিৎসা,, প্রযুক্তি,শিল্প সকল খাতে উন্নয়ন সাধিত হয়। আওয়ামীলীগ সরকার সে ব্যাপারে শতভাগ সফল। শেখ হাসিনা সরকার গত নয় বছরে যোগাযোগ খাতে বৈপ্লবিক উন্নয়ন সাধন করতে পেরেছে। উন্মোচিত হয়েছে সফলতার নতুন দ্বার।

রাষ্ট্রীয় গণপরিবহন ব্যবস্থায়  বি আরটিসি বহরে বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি হয়েছে আগের তুলনায় অনেক।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সুবিধা বঞ্চিত শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য বিআরটিসি বাসে আরোহণ ও অবতরণ সুবিধা প্রদানের জন্য বাস স্টপেজে পোর্টেবল র‌্যাম্প চালু করেছেন । যাতে সাধারন মানুষের মত শারীরিক প্রতিবন্ধীরাও নাগরিক সুবিধা ভোগ করতে পারে।স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী দেশের সূর্য সন্তান যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা ( খেতাবপ্রাপ্ত) বিনা ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারছেন সে ব্যাপারেও লক্ষ্য রাখা হয়েছে।  নিরবচ্ছিন্ন ও স্বচ্ছন্দ যাতায়াতের জন্যই-স্মার্ট কার্ডএর প্রচলন করেছেন। এক কোথায় পুরো ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট-ট্রাফিক সেফটি ব্যবস্থার উন্নয়ন ও বাস পরিবহন সেক্টর পুনর্গঠন করেছেন

উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা রক্ষা করা। গত নয় বছরে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে যোগাযোগ খাতের সড়ক, রেলপথ, নৌপথ এবং আকাশপথে আধুনিকতা পরিলক্ষিত হয়েছে নিরবিচ্ছিন্নভাবে। উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে  বিভাগজেলাউপজেলা ইউনিয়ন পর্যায়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম ফোর লেনঢাকা-ময়মনসিংহ ফোর লেনরংপুর ফোর লেননবীনগর ডিইপিজেড-চন্দ্রা মহাসড়ক, কর্ণফুলী নদীতে টানেল নির্মাণ ,যাত্রাবাড়ি-কাঁচপুর মহাসড়কসহ মোট ৪৬৫ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ককে চার বা তদূর্ধ্ব লেনে উন্নীত,৩ হাজার ৯৩১ কিলোমিটার মহাসড়ক মজবুতীকরণ, ৪ হাজার ৫৯২ কিলোমিটার মহাসড়ককে প্রশস্ত, এক হাজার ৫৯৪ কিলোমিটার জেলা মহাসড়ক সংস্কার ও মেরামত ,৮৪২টি সেতু ও ৩ হাজার ৫৪৬টি কালভার্ট নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ, গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর বাস র্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্পকাঁচপুর,মেঘনা ও গোমতী ২য় সেতু নির্মাণ১০টি সড়ক জোনভিত্তিক ১০টি গুচ্ছ প্রকল্প গ্রহণ, ৪৬৫ কিলোমিটার সড়ককে চার বা তদূর্ধ্ব লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলছে চলছে  পুরোদমে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ছোঁয়া শুধু বড় বড় গ্রাম  শহরে লাগেনি পার্বত্য তিন জেলা রাঙামাটিখাগড়াছড়ি ও বান্দরবনেও  যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে

যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উন্নয়নের চাবিকাঠি বিবেচনা করে সরকার গ্রহণ করেছে একের পর এক মেগা প্রকল্প। দ্রুত সম্পাদনের মাধ্যমে দেশের জনসাধন যাতে সুবিধা ভোগ করতে পারে সেজন্য বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নাম দেয়া হয়েছে ফার্স্ট ট্র্যাক মেগা প্রজেক্টযার মাঝে অন্যতম নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু ,পদ্মা মালটিপারপাস ব্রিজ ,পদ্মা রেল লিঙ্ক প্রজেক্ট দোহাজারি- রামু- কক্সসবাজার গন্দুম রেলওয়ে,মেট্রো রেল যেটি প্রতি ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহনে সক্ষম,পায়রা সি পোর্ট ,সোনাদ্বীপ সি পোর্ট, ঢাকা কক্সবাজার রেল লিঙ্ক সহ অন্যান্য। এ সকল মেগা প্রকল্প সম্পন্ন হলে বদলে যাবে দেশের চেহারা।উন্নত দেশের কাতারে পৌছতে বাংলাদেশকে আর বেশিদিন ভাবতে হবে না। এর সুফল এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।

দেশী বিদেশী  চক্রান্তকে উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এককভাবে পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন করার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করেন। বিশ্বব্যাংকবিশ্ব দাতা সংস্থাগুলো যখন মুখ ফিরিয়ে নিল শেখ হাসিনা সে সময়ই   যাবত কালে উন্নয়ন প্রকল্পের সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেন,পদ্মা সেতু নির্মাণে হাত দিলেন।  যোগ্য পিতার যোগ্য কন্যা বিশ্বকে দেখিয়ে দিলেন বাঙালি চাইলে অসাধ্য সাধনের পথেও অগ্রসর হতে পারে।পদ্মা সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হলে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর সংযোগ সহজ হবে। ব্যবসায়ী এবং সাধারন মানুষের জন্য সময় এবং খরচ দুটিইকমে আসবে।  

যানজটের দুর্ভোগে শহরবাসীর দৈনন্দিন জীবন ছিল অসহনীয়।  গত নয় বছরে বর্তমান সরকার  যানজট নিরসনে নগরবাসীর জন্য ফ্লাইওভার  রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।যার মাঝে উল্লেখযোগ্য  মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারবিশ্বরোড-বিমানবন্দর সংযোগস্থল ফ্লাইওভারমিরপুর হতে বিমানবন্দর সড়ক ফ্লাইওভারবহদ্দারহাট উড়ালসেতুমগবাজার-মৌচাক ফাইওভার সহ নানা প্রকল্প ফ্লাইওভার এর কাজ সম্পন্ন হলে  যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা সহ সময় বাঁচবে অনেক বৃদ্ধি পাবে জীবনমান।  

উন্নত দেশের শহরগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে ঢাকা শহরকে আধুনিক করা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজীকরণের জন্য ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শুরু হয়েছে ঢাকা শহরে যার মাঝে উল্লেখযোগ্য এয়ারপোর্ট টু বনানী রেল ষ্টেশন ,বনানী টু মগবাজার রেল গেট ,মগবাজার টু  কুতুবখালি ,উত্তরা থেকে আগারগাও ,উত্তরা থেকে আশুলিয়া, হযরত শাহজালাল (র.) বিমানবন্দর থেকে কুতুবখালী। দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে প্রকল্প সমাপ্তির কাজ।

নগরবাসীর জন্য শেখ হাসিনা সরকারের আরেকটি বড় উপহার আসছে মেট্রো রেল। যোগাযোগ খাতে আরেকটি মাইল ফলক। যানজটমুক্ত ঢাকা আর নগরবাসীর জীবনযাত্রা  সহজীকরনের জন্য মেট্রোরেল পালন করবে এক কার্যকরী ভুমিকা। এগিয়ে চলছে মেট্রোরেলের সমাপ্তির কাজ।  পাশাপাশি শুরু হয়েছে মেট্রোরেলের লাইন৬ এর নির্মাণকাজ। মেট্রোরেলের আরো কয়েকটি বরুট নিয়ে চলছে সমীক্ষা। র্তমানে উত্তরা থেকে মতিঝিল যেতে সময় লাগে তিন থেকে চার ঘণ্টা। মেট্রো রেল সেটা কমিয়ে আনবে ৪০ মিনিটে

বদলে গেছে ঢাকা শহরের চিত্র। অবৈধ পার্কিংবিলবোর্ডের জঞ্জালফুটপাতে হকার ভিখারিদের উৎপাত  সবই প্রায় অতীত।এয়ারপোর্ট থেকেঢাকা শহরে প্রবেশের পথেই দৃষ্টিনন্দন পরিছন্নতা ছাড়াও  রাস্তার দুধারে সবুজের শ্যমল ছায়া পরিলক্ষিত।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ডিভাইডারগুলোকেও সবুজের চাঁদরে ঢেকে দেয়ার পরিকল্পনা করেছেন।   

যোগাযোগ খাতে প্রায় এক হাজার প্রকল্পের কাজ এখন চলমান। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ণে সদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করছে সরকার যোগাযোগ ব্যবস্থার এহেন উন্নয়নে আমরা আশাবাদী যে নির্ধারিত সময়ের আগেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর হবে বাড়বে অর্থনৈতিক অগ্রগতি।উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সফলতা কামনা করছি।  

২০শে আগস্ট ২০১৮

বিএনপির ভরাডুবি এবং আওয়ামীলীগের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারন

সাজিয়া স্নিগ্ধা:: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মোট ২৫৫ আসনে জয়ী হয়েছে সেই সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট লাভ করেছে ২৮৮ আসন। অপরদিকে ডঃ কামাল হোসেনের ঐক্যফ্রন্ট পায় ৭টি আসন যেখানে বিএনপি ঘরে ওঠে ৫টি আসন , অন্যরা ৩টি আসন। এই পরিসংখ্যান বলে দেয় বাংলদেশের সর্ব স্তরের জনগণের এককভাবে শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করেছে এবং বিএনপিকে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রত্যাখান করেছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগছে এত বিশাল ব্যবধানে পরাজয়ের কারন কি ? সাধারন জনগনের মতামতের বিশ্লেষণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং বিএনপির ভরাডুবির কারনসমূহ তুলে ধরা হলো

নির্বাচনী প্রস্তুতির অভাব ও জনবিচ্ছিন্নতা

দেশের জনগন কেন বিএনপিকে ভোট দিবে, ভোট দিলে দেশ ও জাতি কিভাবে লাভবান হবে এ ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা করতে ঐক্যফ্রন্ট কিংবা বিএনপিকে নির্বাচনী মাঠে একেবারেই দেখা যায়নি পক্ষান্তরে আওয়ামীলীগ গত কয়েক বছরে জনগনের দোরগোড়ায় পৌঁছে বিগত ১০ বছরের উন্নয়ন চিত্র এবং আগামীতে নির্বাচিত হলে কি কি উন্নয়ন পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে  সে সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য জনগনের মাঝে তুলে ধরতে দেখা গেছে। আগামী বার আওয়ামীলীগ দেশ সেবার সুযোগ পেলে দেশকে আন্তর্জাতিকভাবে কোথায় নিয়ে যাবে সে সম্পর্কেও জনগণকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছেব্যপক গন সংযোগ লক্ষ্য করা গেছে আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে।বিএনপি কিংবা ঐক্যফ্রন্ট তাদের পুরোটা সময়ই ব্যায় করেছে আওয়ামীলীগের অনর্থক সমালোচনা করে।দেশ ও জনগন কে প্রাধান্য না দিয়ে সারাক্ষণ ক্ষমতায় যাওয়ার চিন্তা এবং আওয়ামীলীগ কে দেশে এবং বিদেশে কিভাবে ছোট করা যায় সে সমালোচনায় মুখর থাকতে দেখা গেছে।প্রার্থীদের জনসংযোগ বলতে কিছুই ছিল না। পোস্টার , লিফলেট কিছুর ব্যবহার ই চোখে পরেনি।নির্বাচনে মনে হয়েছে বিএনপির নির্বাচনী কোন প্রস্তুতিই ছিল না।      

প্রার্থী বাছাইয়ে অনিয়ম, দুর্বলতা

নির্বাচনের পূর্বেই গত ১ বছরে আওয়ামীলীগ তাঁদের দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য বারবার জরীপ চালিয়েছে। কোন প্রার্থীর জনপ্রিয়তা বেশি, জনসংযোগে কে বেশি কাজ করছেন , কারো বিরুদ্ধে অন্য কোন অভিযোগ আছে কিনা তা নিয়ে বিভিন্ন জরিপ চালানো হয়েছে।কেউ কেউ দলীয় প্রার্থী বাছাইকে প্রভাবিত করতে প্রেস কনফারেন্স ,প্রকাশ্যে আওয়ামীলীগ সভাপতিকে অনুরোধ করেছেন কিন্তু আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা জরিপ ,জনসংযোগ, এলাকায় প্রার্থীর জনপ্রিয়তাকেই অধিক গুরুত্ব প্রদান করেছেন। অপরদিকে বিএনপি র মত এত বড় একটি দলের এ ধরনের কোন প্রস্তুতির কথা শোনা যায়নি।উপরন্তু বিএনপির ওপর নির্বাচন বানিজ্যের অভিযোগ এসেছে বারবার। একই আসনে ৩ জন নেতা কর্মীকে নমিনেশন ফর্ম কিনতে বলা হয়েছিল বিএনপির পক্ষ থেকে।পরবর্তীতে আমরা দেখেছি নমিনেশন দেয়ার পর বিএনপির বিক্ষুব্ধ নেতা কর্মীরা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে।শুধু তাই নয় বিএনপির অনেক পুরানো নেতা কর্মী হতাশা এবং ক্ষোভে প্রেস কনফারেন্স করে পদত্যাগও করেছেন।বিচার-বিবেচনা না করে প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। একইসঙ্গে যেসব প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছেন তারা গত ১০ বছর নির্বাচনী এলাকায়ও যাননি।যারা নির্বাচনে পাস করার মতো প্রার্থী তাদের মনোনয়ন না দিয়ে টাকা নিয়ে অন্যদের মনোনয়ন দিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে ধামরাইয়ের বিএনপির জনপ্রিয় নেতা জিয়াউর রহমাননারায়ণগঞ্জের তৈমুর আলম খন্দকার ও সিলেটের ইনাম আহমেদ চৌধুরীর মতো জনপ্রিয় নেতাদের মনোনয়ন না দিয়ে এমন কিছু নেতাদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছেযাদের এলাকার মানুষ চেনেই না।

নেতৃত্বের দুর্বলতা

বিএনপি দিকহারা এক রাজনৈতিক সংগঠনে পরিণত হয়েছে।চলছে নেতৃত্ব সংকট।দলের প্রধান  খালেদা জিয়া সাজাপ্রাপ্ত  আসামী । বর্তমানে জেলে কৃতকর্মের সাজা ভোগ করছেন খালেদা জিয়ার অবর্তমানে দল চালাচ্ছেন তারেক জিয়া। আরেকজন দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামীদীর্ঘদিন বিদেশে পলাতক আছেন কিন্তু তার নির্দেশ ছাড়া বিএনপির পাতাও নড়ছে না।স্কাইপি তে প্রার্থীদের ইন্টার্ভিউ নিয়েছেন। সমস্ত কলকাঠি নাড়ছেন কিন্তু মাঠে নেই। ঐক্যফ্রন্ট এর শরীক হয়েছেন কিন্তু একেক নেতা একেক সময় একেক কথা বলছেন , কেউ দায়িত্ব নিচ্ছেন না একজন আরেকজনের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন।কারো কাছেই সুস্পষ্ট কোন উত্তর নেই। আন্দোলন আন্দোলন করছেন কিন্তু কিসের আন্দোলন সেটিও সুস্পষ্ট করে জনগনের কাছে তুলে ধরতে পারেনিদলে কেউ কারো কথা শুনছেন না। লিক হওয়া বিভিন্ন অডিওর কথোপকথন নেতৃত্ব সংকট প্রকট ভাবে ভেসে উঠেছে সাধারন ভোটার দের কাছেকর্মীরাও বিভ্রান্ত প্রশ্ন সবার মনে, কে দলের নেতা? অপরদিকে আওয়ামীলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর নেতৃত্বের বলিষ্ঠটাদৃঢ়তা , দূরদর্শিতা চমৎকার ভাবে তুলে ধরেছেন। কথা কাজ দুটাতেই সামঞ্জস্য, সাধারন মানুষের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছেন।

সাংগঠনিক ঐক্য

এ নির্বাচনে আওয়ামীলীগকে দলীয় শৃঙ্খলা ছিল চোখে পরার মতন।আওয়ামীলীগের নমিনেশন দেয়া হয়নি এমন প্রার্থীরা বিরোধী হিসেবে দলের বিপক্ষে কাজ করেননি।মান অভিমান কিছু থাকলেও দলীয় প্রার্থীকে দলের সকল নেতা কর্মী সবাই সহযোগিতা করেছেন, কাজ করেছেন টিম হিসেবে। নির্বাচন নিয়ে আওয়ামীলীগের পরিকল্পনা ছিল সুদূরপ্রসারী।ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট কে কে থাকবেন, কোথায় থাকবেন, তাদের সঠিক ট্রেইনিং সবকিছুই করা হয়েছে সুশৃঙ্খলভাবে। অপরদিকে বিএনপিকে দেখা গেছে নিজেদের দীর্ঘদিনের নেতা কর্মীদের প্রাধান্য না দিয়ে শিবির থেকে পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দেয়ার পরিকল্পনা।যা পক্ষান্তরে দলীয় নেতা কর্মীদের নিরুৎসাহিত করেছে কেন্দ্রে যেতে, কাজ করতে। কয়েক জায়গায় বিএনপি থেকে কোন এজেন্টও নিয়োগ দেয়া হয়নি।  সাংগঠনিক ভাবে আওয়ামীলীগ বিএনপি কিংবা ঐক্যজোট থেকে ছিল অনেক বেশি শক্তিশালী এবং গোছানো।কর্মী এবং প্রার্থীদের নিয়ে মিটিং , আলাপ আলোচনা সবই হয়েছে নির্বাচনের আগে। অন্যদিকে বিএনপি কি আদৌ নির্বাচনে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল কিনা তা জনমনে বিরাট প্রশ্ন আঁকারে সামনে এসেছে।  বিএনপির নেতাদের ফাঁস হওয়ার ফোনালাপেই স্পষ্ট ছিল নির্বাচন নয় ,ক্ষমতায় যাওয়াই ছিল মুখ্য উদ্দেশ্য।বিএনপির নেতাদের গভীর ষড়যন্ত্রের নীল নকশা, পরিকল্পিতভাবে দেশের বিভিন্নস্থানে সন্ত্রাস-সহিংসতার মাধ্যমে একটি অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে হঠাৎ করেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ষড়যন্ত্রের কথাও ফাঁস হয়ে যায় এসব ফোনালাপে।

নির্বাচনী ইশতেহার

পশ্চিমা বিশ্বে নির্বাচনী ইশতেহার বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।বাংলাদেশের ইতিহাসে সেভাবে কখনই গুরুত্ব পায়নি কিন্তু আওয়ামীলীগ সরকার গত নির্বাচন থেকে এই  ধারার পরিবর্তন এনেছে।গত নির্বাচনে  আওয়ামীলীগের সকল প্রতিশ্রুতি তারা পুরন করেছে এবং যুগোপযোগী আরও নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এবারের নির্বাচনী প্রচারাভিযানে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী ইশতেহার দলের চিন্তা ও লক্ষ্য কর্মসূচীর সঙ্গে জনমানুষকে সম্পৃক্ত করে বাস্তবানুগ এবং বাস্তবায়নযোগ্য তাঁর ভবিষ্যত পরিকল্পনা ও কর্মসূচী ভোটারদের মাঝে তুলে ধরে জনগনের মনে ইতিবাচক আস্থার জায়গা তৈরি করতে পেরেছে।অন্যদিকে বিএনপির ইশতেহার ফাঁকা গুলির মত, বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন মনে হয়েছে।বিসিএস এর বয়স সীমা নিয়ে বিএনপির পরিকল্পনা সাধারন জনগনের হাস্যরসে পরিণত হয়েছে।     

তরুন  ভোটারদের আকৃষ্ট  

এবারের নির্বাচনে  নতুন ভোটার ছিল দুই কোটির উপরে। একটা বিশাল সংখ্যক ভোটার এবার জীবনে প্রথম ভোট দিয়েছেন।তাদেরকে নির্বাচনী ফ্যাক্টর বলে অবিহিত করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।গতানুগতিকের পরিবর্তে চমক সৃষ্টির মতো নির্বাচনী ইশতেহারতরুণ প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতে দেয়া নানা প্রতিশ্রুতি আর সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা দ্রুত সমাধানে শেখ হাসিনার অঙ্গীকার সামগ্রিকভাবেই আওয়ামী লীগের বিজয়ের অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করেছে।

জামাত জোট  

একাত্তরের পরাজিত শক্তির এ দেশীয় এজেন্টদের বাংলার জনগন অনেক আগেই বর্জন করেছে। ধর্মকে ব্যবহার করে, পাকিস্তানী ভাবধারার রাজনীতি যারা করে স্বাধীনতাবিরোধী উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠী ও সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিবন্ধন হারানো জামায়াতের সঙ্গে জোট বিএনপির ভরাডুবির অন্যতম কারন।  তাদের সাথে জোট করে বিএনপি সাধারন জনগনের মাঝে দল হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।প্রচুর টাকা ছড়িয়েও জামায়াতী চক্ররা একটি আসন তো দূরের কথাকোথাও তাদের জামানতও রক্ষা করতে পারেনি।একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্ট জামাতের ২৫ জনকে ধানের শীষে নমিনেশন দিয়েছে। ভোটের মাঠেই ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগন সাম্প্রদায়িকতাসন্ত্রাস,জঙ্গীবাদ ও উগ্র মৌলবাদকে ঘৃণার সাথে বর্জন করেছে।

কলঙ্কময় অতীত ইতিহাস

বিএনপি-জামায়াত জোটের পাঁচ বছরের দুঃশাসনদুর্নীতিঅওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলার জন্য ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের নারকীয় হত্যাকাণ্ড, জঙ্গীবাদের উত্থান, ৬৩ জেলায় একযোগে সিরিজ বোমা হামলা ,২০১৪ সালে নির্বাচন ঠেকানোর নামে দেশজুড়ে ভয়াল সন্ত্রাস,নাশকতা ও পুড়িয়ে শত শত মানুষকে হত্যা এ সকল ঘটনা  সাধারণ মানুষের মনের স্মৃতিপটে এখনও সতেজ। বাংলাদেশকে সেই আগের জায়গায় আর কেউ দেখতে চায় না। নতুন উদ্যমে নতুনের স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে চায়।বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সেক্ষেত্রে সফলতার সাথে সাধারন মানুষকে উজ্জেবিত করতে পেরেছে  সহিংসতা ও পেট্রোলবোমার রাজনীতি বর্জন করতে।    

উন্নয়ন বার্তা প্রচার

আওয়ামীলীগ সরকারের গত ১০ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশের প্রভূত উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। ভারতের সঙ্গে ঐতিহাসিক পানি বণ্টন চুক্তি,পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি চুক্তিসহ অসংখ্য ঐতিহাসিক কর্মকা- সম্পাদন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ, বিদ্যুতগ্যাসশিক্ষা, শিল্প ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষকে উপহার দিয়েছে সোনালি ভবিষ্যতের স্বপ্ন। দেশজ সম্পদমাথাপিছু আয়শিল্প-কৃষি ও সেবা খাতের উন্নয়নউন্নয়নের গতিশীলতানারী উন্নয়নস্বাস্থ্যসেবা,অবকাঠামোসড়ক ও পরিবহনযুব উন্নয়ননারীর ক্ষমতায়নঅবহেলিত জনপদ ও জনগোষ্ঠীর উন্নয়নসমুদ্র জয়সীমান্ত চুক্তির মাধ্যমে ছিটমহল সমস্যার সমাধানমানুষের দোরগোড়ায় প্রযুক্তি পৌঁছে দেয়ামহাকাশ বিজয়ডিজিটাল বাংলাদেশসামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নসর্বক্ষেত্রেই বাংলাদেশ হয়ে ওঠে বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। অন্ধকারের বদলে দেশ এখন এগিয়ে চলছে আলোর পথেযে সরকার জনসাধারণের জীবন মানের এত উন্নয়ন সাধন করেছে বাংলাদেশের এ যাবত ইতিহাসে তাঁদেরকে জনগন আবার দেশ সেবার সুযোগ দিবে এমনটা প্রত্যাশিত । দেশ যেমন উন্নত হয়েছে তেমনি উন্নয়নের বার্তা প্রচার দেশে বিদেশে ব্যাপক ভাবে হয়েছে। দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চলে দেশের সার্বিক উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে গেছে। এক্ষেত্রে দল হিসেবে আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক দক্ষতাই প্রমান করে।

 

সুশিল সমাজের সমর্থন

এবারের নির্বাচনে  উল্লেখযোগ্য দিক ছিল সুশীল সমাজের প্রতিনিধিশিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী, আইনজীবীসাবেক সামরিকবেসামরিক,আমলাপুলিশ বাহিনীর উর্ধতন কর্মকর্তা, সাংবাদিকব্যবসায়ী, সংস্কৃতিকর্মী,  সাহিত্যিক সহ দেশের প্রায় সর্ব স্তরের জনগন প্রকাশ্য মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলো।এবং সকলেই উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছিলেন একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী,বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের স্বজনদের পক্ষে থাকা বিএনপি-জামায়াত-যুক্তফ্রন্টকে ব্যালটের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যানের যা অতীতের কোন নির্বাচনে হয়নি। আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের মহাজয়ের পেছনে এটিও অন্যতম কারণ।

 

পরিশেষে , এবারের ব্যালট বিপ্লবে আওয়ামীলীগ সরকার চতুর্থবারের মতো এবং টানা হ্যাটট্রিকবার সরকার গঠন করেছে। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম সবচেয়ে বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নতুন সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন মহাজোট ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকিন্তু  আওয়ামীলীগ সরকারের প্রতি সাধারন মানুষ সহ বিশ্ববাসীর প্রত্যাশা অনেকগুন বেড়ে গেছে। গত ১০ বছরের উন্নয়নের পর মানুষ দেখতে চায় আওয়ামীলীগ সরকার দেশকে আরও কত দূর নিয়ে যেতে পারে।

সাজিয়া স্নিগ্ধা

ডিসেম্বর ২০১৮

বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ , বঙ্গবন্ধুর  আত্নস্বীকৃত খুনি এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নিরবতা  

সাজিয়া স্নিগ্ধা :: মানব সভ্যতার ইতিহাসে অন্যতম ঘৃণিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছিলো ১৯৭৫ সালের  ১৫ আগস্ট। মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত ঘাতক চক্র সেই কালরাত্রিতেই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতিজাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা করেছিলো।  

বাঙ্গালীর অধিকার আদায়ে ইতিহাসে শোষণ বঞ্চনার বিরুদ্ধে যতগুলো আন্দোলন হয়েছিলো তার প্রত্যেকটিতে বঙ্গবন্ধু ছিলেন সামনের সারিতে। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৫৪ যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন৫৮ সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন৬১ শিক্ষা নীতি আন্দোলন,৬৬ র ছয় দফা,৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান৭০ এর নির্বাচন৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং ভুমিকা ছিল সর্বাগ্রে। বঙ্গবন্ধুর কারাজীবন হিসেব করলে  দেখা যায় জীবনের ১৩টি বছর অন্ধকার প্রকোষ্ঠে  জেলখানায় কাটিয়েছেন তিনি শুধুমাত্র বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ে। নিজের আরাম আয়েশসুখ সুবিধাপরিবার পরিজনভোগ বিলাসের কথা চিন্তা করেননি কখনও

ভাষা আন্দোলনের গোঁড়ার দিকে যদি যাই ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারতবর্ষ ভাগ হয়ে পাকিস্তানের উদ্ভব হয়। পাকিস্তানের দুটি অংশ ছিল। পূর্ব পাকিস্তান এবং পশ্চিম পাকিস্তানের। দুটি অংশের  সাংস্কৃতিকভৌগোলিক ও ভাষাগত দিক থেকে অনেক মৌলিক পার্থক্য বিরাজমান ছিল।মিল ছিল কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মে। পাকিস্তানের জন্মলগ্ন থেকেই এর পূর্ব অংশ পশ্চিম অংশের তুলনায় নানাভাবে বঞ্চিত হতে থাকে। বাঙ্গালীর জীবনে শোষণ নিপীড়ন বন্ধ হয়নি তখনও। কর্মক্ষেত্রে, অধিকারে,সন্মানে সকল দিক দিয়েও বাঙ্গালি পাকিস্তানীদের কাছে নির্যাতিত নিপীড়িত বঞ্চিত হতে থাকে ক্রমাগত। প্রথমে আঘাত আসে মাতৃভাষা বাংলার ওপর। উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা বানাতে চেয়েছিল পাকিস্তান সরকার। এমন আকস্মিক এবং  অন্যায্য দাবি পূর্ব পাকিস্তানের বাংলাভাষী সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। বাংলাভাষার সম-মর্যাদার দাবিতে পূর্ব পাকিস্তানের বাংলা  ভাষা ভাষীদের মধ্যে আন্দোলন  দানা বাঁধতে শুরু করেভাষা আন্দোলনের সময়ে বঙ্গবন্ধু জেলে অবস্থান করছিলেন। ভাষা আন্দোলনকে দিকনির্দেশনা প্রদান সহ  রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবিতে  ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক শেখ মুজিব ও মহিউদ্দিন আহম্মদ রাষ্ট্রভাষার দাবিতে ১৬ ফেব্রুয়ারি ৫২ আমরণ অনশন শুরু করেন। বঙ্গবন্ধুর আত্নজীবনীতে লেখা আছে,  আমাদের এক জায়গায় রাখা হয়েছিল জেলের ভেতর। যে ওয়ার্ডে আমাদের রাখা হয়েছিলতার নাম চার নম্বর ওয়ার্ড। তিনতলা দালান। দেয়ালের বাইরেই মুসলিম গার্লস স্কুল। যে পাঁচ দিন আমরা জেলে ছিলাম সকাল দশটায় মেয়েরা স্কুলের ছাদে উঠে স্লোগান দিতে শুরু করতআর চারটায় শেষ করত। ছোট্ট মেয়েরা একটুও ক্লান্ত হতো না। রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’, ‘বন্দি ভাইদের মুক্তি চাই’ ‘পুলিশি জুলুম চলবে না’ নানা ধরনের স্লোগান। এই সময় শামসুল হক সাহেবকে আমি বললাম, ‘হক সাহেব ওই দেখুনআমাদের বোনরা বেরিয়ে এসেছে। আর বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা না করে পারবে না।’ হক সাহেব আমাকে বললেন, ‘তুমি ঠিকই বলেছমুজিব।’ ( আত্মজীবনীশেখ মুজিবুর রহমানপৃষ্ঠা ৯৩) ১৯৫২ সালে গনআন্দোলন চূড়ান্ত আকার ধারন করলে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয় এবং ১৯৫৬ সালে সংবিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।

ভাষা আন্দোলনের পরেই বঙ্গবন্ধু শুরু করেন বাঙালির স্বাধীনতাস্বাধিকার ও অর্থনৈতিক মুক্তির আন্দোলন।  ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় দল পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ১৬৯ টি আসন হতে ১৬৭ টি আসনে জয়লাভ করে এবং ৩১৩ আসনবিশিষ্ট জাতীয় পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়যা আওয়ামী লীগকে সরকার গঠনের অধিকার প্রদান করে।কিন্তু শুরু হয় ক্ষমতা প্রদানের টাল বাহানা।বছর পেরিয়ে যেতে থাকে। অপেক্ষায় ধর্যের বাঁধ যখন ভেঙ্গে যায় তখনই ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন। এই ভাষণে তিনি ২৫শে মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশনের আগে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করার দাবী জানান। ১৯৭১ এর সেই ৭ মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণে বাঙালিকে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়ে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রামএবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রম।’ বঙ্গবন্ধুর এই ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে প্রস্তুত হয় বাঙালি। ২৬ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।দেশের মুক্তিকামী মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে হাজার বছরের নির্যাতিত-নিপীড়িত পরাধীন বাঙালি জাতির স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশের বিজয় অর্জিত হয়।মানচিত্রে নতুন জাতি রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের পরিচিতি হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বাঙালি অধিষ্ঠিত করে তাদের জাতির পিতার আসনে।

বাংলাদেশ স্বাধীন হয় ঠিকই কিন্তু পাকিস্তানের দালালরা স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীন নাগরিক হওয়ার চাইতে পাকিস্তানীদের গোলামী, চক্রান্ত আর চাতুকারিতাই পছন্দ করতো।তাইতো বঙ্গবন্ধু যখন ভগ্নপ্রায় বাংলাদেশ কে বিনির্মাণে আত্ননিয়োগ করেছিলেন তখন চক্রান্তকারীরা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে কিভাবে ধ্বংস করা যায় তার পরিকল্পনা করছিলো।

নতুন আশা স্বপ্ন উদ্দিপনা নিয়ে স্বাধীনতার সুফল মানুষের ঘরে পৌঁছিয়ে দেবার জন্য দেশেরমানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে অগ্রসর হতে শুরু করেন বঙ্গবন্ধু। গ্রহণ করেন দেশ পুনর্বাসন পুনর্গঠন কর্মসূচি। প্রথমেই স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন করেন বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা নীতি, জাতীয় রক্ষীবাহিনী গঠন সেনাবাহিনীর , বিমানবাহিনী , নৌবাহিনী  পুনর্গঠন করেন। এর সাথে সাথে পাকিস্তানি দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাস্বচ্ছ নিরপেক্ষ ও উন্মুক্ত বিচারকার্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন-১৯৭৩মহান মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের পুনর্বাসন,ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের পুনর্গঠনত্রিদলীয় ঐক্যজোট গঠনবাংলাদেশ হাইকোর্ট প্রতিষ্ঠাবাংলাদেশ আইন কর্মকর্তার পদ সৃষ্টি;বাংলাদেশের জ্বালানী নিরাপত্তাপেট্রোল ও খনিজ সম্পদ উৎপাদনে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারি চুক্তি সম্পাদনরাষ্ট্রপতির ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল গঠনবাংলাদেশের সমুদ্রসীমা ও সামুদ্রিক সম্পদরাজিট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (TCB), বাংলাদেশ কনজ্যুমার সাপ্লাইজ করপোরেশন অর্ডার১৯৭২ জারিদ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল কমিটি,জাতীয় স্মৃতিসৌধ নির্মাণ প্রেক্ষাপটচিকিৎসাশিক্ষাস্বাস্থ্যভৌত অবকাঠামো,প্রাতিষ্ঠানিক অবদানঃ বেতবুনিয়া উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্র উদ্বোধনবাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের,চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন সহ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে বিভিন্ন বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে থাকেন।

বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন  এবং সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে কাজের পরিধি উল্লেখ করার পেছনে একটি কারন রয়েছে।  স্বাধীনতার পর এই সফলতা ও উন্নতির দিকে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার গতি বুঝতে পেরেই স্বাধীনতাবিরোধীচক্র দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র শুরু করে।

১৫ আগস্টের ভোরে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বাংলাদেশের স্থপতি বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজ বাসভবনে তাঁর সহধর্মিণী মহীয়সী নারী বেগম ফজিলাতুন্নেছাবঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ পুত্র মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল, কনিষ্ঠ শেখ জামাল, শিশু পুত্র শেখ রাসেলদুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামালবঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসেরভগ্নীপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত ও তার কন্যা বেবি সেরনিয়াবাত,আরিফ সেরনিয়াবাতদৌহিত্র সুকান্ত আবদুল্লাহ বাবুভ্রাতুষ্পুত্র শহীদ সেরনিয়াবাতবঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনিবঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তা অফিসার কর্নেল জামিল আহমেদ এবং ১৪ বছরের কিশোর আবদুল নঈম খান রিন্টুসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও আত্মীয়স্বজনকে ঘাতকরা হত্যা করে। বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা এবং কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধের চার মূলনীতি- ধর্মনিরপেক্ষতাবাঙালি জাতীয়তাবাদগণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র ভূলুণ্ঠিত হয়েছিলোবঙ্গবন্ধুর গৃহীত পদক্ষেপগুলোকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিলস্বাধীনতার চেতনা ও মূল্যবোধকে পদদলিত করে উল্টো পথে সেই পাকিস্তানি  ভাবধারার দিকে ধাবিত হয় বাংলাদেশ। ষড়যন্ত্রপাল্টা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে একের পর এক সামরিক স্বৈরশাসনের পালা বদল হতে থাকে। সেই সঙ্গে সামরিক স্বৈরশাসকদের ছত্রছায়ায় দেশে স্বাধীনতাবিরোধী পরাজিত গোষ্ঠীউগ্র সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী জঙ্গি গোষ্ঠীর উত্থান ঘটে।মানবাধিকার রক্ষার জন্য হত্যাকারীদের বিচারের বিধান রয়েছে কিন্তু বাংলাদেশে জাতির জনকের আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিচারের হাত থেকেরেহাই দেবার জন্য জেনারেল জিয়াউর রহমান সামরিক শাসনের মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ইনডেমনিটিঅর্ডিন্যান্স নামে এক কুখ্যাত কালো আইন সংবিধানে সংযুক্ত করে খুনিদের পুরস্কৃত করা হয় বিদেশে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে১৯৯৬সালের ২৩ জুন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর জাতির কলঙ্কময় সেই কুখ্যাত ইনডেমনিটিঅর্ডিন্যান্স জাতীয় সংসদ বাতিল করে।

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর বিশ্ব নেতৃবৃন্দ হতবাক হয়েছিল। যে বাংলাদেশের জন্য, বাঙ্গালির জন্য,  বাংলার মানুষের জন্য বঙ্গবন্ধু এত কিছু করেছেন তাকে কিভাবে বাঙ্গালীরা হত্যা করতে পারলো? ১৯৭১-এর হত্যাকাণ্ড মনে করিয়ে দেয় ২৩ জুন, ১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে পাতানো যুদ্ধের পরাজয়ের পর বিশ্বাসঘাতক মীর জাফর চক্রের হাতে মুর্শিদাবাদে নির্মমভাবে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা এবং তাঁর পরিবারের বিয়োগান্তক ঘটনা।   

আজকে বাংলাদেশে কিছু হলে দেশীয় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো সোচ্চার হয়ে যায়। বিভিন্ন পত্র পত্রিকা, টেলিভিশনে বক্তব্য দিয়ে সেমিনার করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে যেদিন সপরিবারে হত্যা করেছিলো, দেশে স্বাধীনতার অমোঘ বানী জয় বাংলা নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো, বঙ্গবন্ধুর আত্নস্বীকৃত খুনিদের পুরস্কৃত করা হয়েছিলো , মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কে ১৩ বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিলো, আত্নগোপনে থাকা হত্যাকারীদের বিদেশ থেকে ফেরত চাওয়ার ব্যাপারে কখনই কোন কথা বলতে দেখিনি।এ সকল সময় মানবাধিকার সংস্থাগুলো নিরব ভুমিকা সবসময়।  

মানুষের জন্মগত অধিকারই মানবাধিকার। বিশ্বের কোন দেশগোষ্ঠীদলজাতি ধর্ম ও বর্ণের মধ্যে মানবাধিকার সীমাবদ্ধ নয়। বরং বিশ্ব ব্যাপী সকল জাগতিক সম্পর্কের সীমানা পেরিয়ে সকল মানুষের চিরন্তন অধিকার রক্ষায় আপোষহীন সংগ্রামই মানবাধিকার। জাতিসংঘ সনদ দ্বারা এই অধিকার স্বীকৃত।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর প্যারিসে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এই ঘোষণা প্রদান করা হয়। প্রত্যেক মানুষের মানবাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে এই সনদ ঘোষিত হয়।মানবাধিকার সংস্থগুলো এ সকল অধিকার নিয়েই কাজ করে।

মানুষের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব যেমন রাষ্ট্রেরতেমনি মানবাধিকার সংরক্ষন করার দায়িত্বও রাষ্ট্রের।রাষ্ট্র যখন তা প্রদানে ব্যর্থ হয় তখন মানবাধিকার  লঙ্ঘিত হয়।তেমনি কোন সন্ত্রাসী যদি কাউকে হত্যা করে কিংবা  রাষ্ট্র প্রদত্ত অধিকার খর্ব করে তখনও মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়। হত্যা কিংবা  ন্যায়বিচারে বাঁধা বিলম্বিত হলেও মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়।  মানবাধিকার সংরক্ষণে মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্রের কিছু ধারা পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হল।  ধারা ১ এ উল্লেখ আছে,  সমস্ত মানুষ স্বাধীনভাবে সমান মর্যাদা এবং অধিকার নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। তাঁদের বিবেক এবং বুদ্ধি আছে সুতরাং সকলেরই একে অপরের প্রতি ভ্রাতৃত্বসুলভ মনোভাব নিয়ে আচরণ করা উচিত্‍।ধারা ৩ এ উল্লেখ রয়েছে ,  জীবনস্বাধীনতা এবং দৈহিক নিরাপত্তায় প্রত্যেকের অধিকার আছে।ধারা ৫ এ আছে ,  কা‌উকে নির্যাতন করা যাবে নাকিংবা কারো প্রতি নিষ্ঠুরঅমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ করা যাবে না অথবা কা‌উকে এহেন শাস্তি দেওয়া যাবে না।

উল্লেখিত ১ ধারা অনুযায়ী , বঙ্গবন্ধু যে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিলেন সে দেশে বঙ্গবন্ধুর অধিকার ছিল বাংলার মানুষ থেকে সন্মান মর্যাদা এবং অধিকার পাওয়ার । ধারা ৩  অনুযায়ী বঙ্গবন্ধুর ও   জীবনস্বাধীনতা এবং দৈহিক নিরাপত্তায় অধিকার ছিল। ধারা ৫ অনুযায়ী শুধু বঙ্গবন্ধু নয় বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যার প্রতি নিষ্ঠুরঅমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ করা হয়েছে। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরেও তারা তাঁদের পিতা এবং পরিবারের হত্যাকাণ্ডের বিচার পায়নি।

কিছুদিন থেকেই লক্ষ্য করছি সাংবাদিক শহীদুল আলমকে নিয়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলো সভা সেমিনার করছে কিন্তু শহিদুল আলম যে দিনের পর দিন বাংলাদেশের ইতিহাসকে বিকৃত করে যাচ্ছে, বাংলাদেশ নিয়ে একের পর এক মিথ্যাচার করে যাচ্ছে দেশের মানুষ ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ার কাছে এটি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো কেন কথা বলছেন না ?একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অধিকার কে তাকে দিয়েছে? এটি শুধু আইনের চোখে না দেশের মানুষের চোখেও ঘৃণিত অপরাধ। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারেও দেখেছি দণ্ডপ্রাপ্ত ফাঁসির আসামীদের জন্য মানবিকতার বার্তা নিয়ে বিশ্বব্যাপী ঘুরে বেড়িয়েছেন মানবাধিকার সংগঠনগুলো।  

 

মুক্তিযুদ্ধে পাশবিক নির্যাতনের শিকার চার লাখ মা বোন,  শীর্ষ-বুদ্ধিজীবীদের পরিবার যেমন অপেক্ষা করছে রাজাকারদের বিচারের তেমনি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাও অপেক্ষা করছে তাঁর পরিবার এবং পিতৃ হত্যার বিচারের। বঙ্গবন্ধু হত্যার সাজাপ্রাপ্ত ৬ জন পলাতক খুনি নূর চৌধুরী, এ এম রাশেদ চৌধুরী, শরিফুল হক ডালিমখন্দকার আবদুর রশিদআবদুল মাজেদ ও রিসালদার মোসলেহ উদ্দিন এখন বিদেশে পালিয়ে আছে। শুধু অপরাধীদের জন্য সভা সেমিনার না করে   মানবাধিকার সংস্থাগুলো বিভিন্ন দেশে পালিয়ে থাকা খুনিদের ফিরিয়ে দেয়ার জন্য সভা সেমিনার পিটিশন , আন্তর্জাতিক মিডিয়ার কাছে আবেদন  করতেন তাহলে বঙ্গবন্ধু হত্যার যে কলঙ্ক-তিলক  বাঙ্গালি মাথায় ধারণ করে আছে বাঙ্গালি তা নির্মূলে সহায়ক হবে। সাধারন মানুষেরও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা বাড়বে।  

 জানুয়ারী২০১৯

হাউজ অব লর্ডসে শেখ হাসিনা সরকারের গত ১০ বছরের উন্নয়ন আলোচনা

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান স্টাডি সার্কেলের আয়োজনে সম্প্রতি হাউজ অব লর্ডসের ঐতিহাসিক এটলে রুমে অনুষ্ঠিত হল বাংলাদেশের গত ১০ বছরের উন্নয়ন নিয়ে “বাংলাদেশ এ গোল্ডেন জার্নি টু ডেভেলপমেন্ট ” শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান।
স্টাডি সার্কেলের চেয়ারপার্সন সৈয়দ মোজাম্মেল আলীর সভাপতিত্বে এবং স্টাডি সার্কেলের গবেষক সাজিয়া স্নিগ্ধার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্পীকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাউজ অব লর্ডসের সদস্য ব্যারোনেস মঞ্জিলা পলা উদ্দিন,পপলার লাইম হাউজের এমপি জিম ফিটজ প্যাট্রিক, ব্রেনট কাউন্সিলের এমপি শ্যাডো ওমেন এন্ড ইকুয়ালিটি সেক্রেটারি ডওন বাটলার এমপি , বাংলাদেশ হাই কমিশন লন্ডনের হাই কমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম এবং বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।
স্টাডি সার্কেলের চেয়ারপার্সন সৈয়দ মোজাম্মেল আলী স্বাগত বক্তব্যে বলেন বাংলাদেশের যে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে তা প্রবাসীদের কাছে এবং আমাদের বন্ধু রাষ্ট্রের কাছে তুলে ধরার প্রয়াসে স্টাডি সার্কেলের এর যাত্রা এবং আজকের এ আয়োজন।তিনি জানান ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সাড়ে ছয়শ এমপির কাছে বাংলাদেশের উন্নয়নের গল্পগাথা ইতিমধ্যে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।
সভাপতির স্বাগত বক্তব্যের পরেই স্পীকাররা বাংলাদেশের উন্নয়ন চিত্র নিয়ে তাঁদের মতামত উপস্থাপন করেন। হাউজ অব লর্ডসের সদস্য ব্যারোনেস মঞ্জিলা পলা উদ্দিন স্টাডি সার্কেলের প্রকাশনা বাংলাদেশ এ গোল্ডেন জার্নি টু ডেভেলপমেন্ট” এর ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন এত দ্রুত সময় বাংলাদেশের উন্নয়ন বিশ্বে অন্যন্য দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছে।
লেবার পার্টির সিনিয়র এমপি জিম ফিটজপ্যাট্রিকস বলেন, নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য উন্নয়নের নজির স্থাপন করেছে। বিভিন্ন খাতে সম্প্রতি বাংলাদেশের উন্নয়নকে ‘গোল্ডেন ডেভেলপমেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ‘গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ’ শীর্ষক সর্বশেষ রিপোর্টে একই অভিমত তুলে ধরা হয়েছে। এই রিপোর্টে নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষ এবং বৈশ্বিক সূচকে ৫ম অবস্থানে রয়েছে।
ব্রেনট কাউন্সিলের এমপি শ্যাডো ওমেন এন্ড ইকুয়ালিটি সেক্রেটারি ডওন বাটলার এমপি বলেন, উন্নয়ন বিশেষ করে দ্রুত ও অব্যাহত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন, কমিউনিটি হেলথ কেয়ার এবং অবকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই অনেক দেশের রোল মডেল হয়ে উঠেছে।বিশেষ করে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নারী পুরুষের সমতায়।
বাংলাদেশ হাই কমিশন লন্ডনের হাই কমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, বিশ্বের থিনট্যাঙ্কদের কাছে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের বিস্ময়। যা শেখ হাসিনার সাহসী ও দূরদৃষ্টি সম্পন্ন নেতৃত্বের কারণে সম্ভব হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের হাউস অব লর্ডসে এক বৈঠকে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক গত ১০ বছরে বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং জনসাধারনের সুবিধার জন্য সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরেন।
স্পীকারদের বক্তব্যের পরেই শুরু হয় আগত অতিথিদের নিয়ে এক মুক্ত আলোচনা সভার।মুক্ত আলোচনায় ক্লাইমেট চেঞ্জ , রোহিঙ্গা ইস্যু সহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।
আলোচনা শেষে স্টাডি সার্কেলের সমন্বয়ক জামাল খান আলোচনা অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করে সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং এ ধরনের আয়োজন স্টাডি সার্কেলের পক্ষ থেকে নিয়মিত করার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে আর যোগ দেন ছিলেন ইউনাইটেড নেশনের সাংবাদিক মিস ক্লার্ক , সাবেক মেয়র এবং কাউন্সিলার পারভেজ আহমেদ, সাবেক কাউন্সিলার মুরাদ কোরেশী এম এল , কাউন্সিলার দিলআর আলী, ইস্ট বর্ণ কাউনটি কাউন্সিলের মজমিল হুসেন, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব শামসুদ্দিন খান, সুলতান মাহমুদ শরীফ, জালাল উদ্দিন, এম এ হাশেম, আব্দুল আহাদ চৌধুরী,মিসবা সাদাত, নাজিম করিম, খালেদ জয়, আব্দুল বাসির, মাহমুদা মনি এড ইয়াদিয়া জামান সহ বিশিষ্ট কয়েকজন ব্রিটিশ পার্লামেন্টারিয়ান, ব্রিটিশ-বাংলাদেশী শিক্ষাবিদ এবং রাজনীতিবিদ , কমিউনিটি নেতা, সাংবাদিক ও উন্নয়নকর্মী।