বিএনপির ভরাডুবি এবং আওয়ামীলীগের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারন

সাজিয়া স্নিগ্ধা:: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মোট ২৫৫ আসনে জয়ী হয়েছে সেই সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট লাভ করেছে ২৮৮ আসন। অপরদিকে ডঃ কামাল হোসেনের ঐক্যফ্রন্ট পায় ৭টি আসন যেখানে বিএনপি ঘরে ওঠে ৫টি আসন , অন্যরা ৩টি আসন। এই পরিসংখ্যান বলে দেয় বাংলদেশের সর্ব স্তরের জনগণের এককভাবে শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করেছে এবং বিএনপিকে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রত্যাখান করেছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগছে এত বিশাল ব্যবধানে পরাজয়ের কারন কি ? সাধারন জনগনের মতামতের বিশ্লেষণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং বিএনপির ভরাডুবির কারনসমূহ তুলে ধরা হলো

নির্বাচনী প্রস্তুতির অভাব ও জনবিচ্ছিন্নতা

দেশের জনগন কেন বিএনপিকে ভোট দিবে, ভোট দিলে দেশ ও জাতি কিভাবে লাভবান হবে এ ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা করতে ঐক্যফ্রন্ট কিংবা বিএনপিকে নির্বাচনী মাঠে একেবারেই দেখা যায়নি পক্ষান্তরে আওয়ামীলীগ গত কয়েক বছরে জনগনের দোরগোড়ায় পৌঁছে বিগত ১০ বছরের উন্নয়ন চিত্র এবং আগামীতে নির্বাচিত হলে কি কি উন্নয়ন পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে  সে সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য জনগনের মাঝে তুলে ধরতে দেখা গেছে। আগামী বার আওয়ামীলীগ দেশ সেবার সুযোগ পেলে দেশকে আন্তর্জাতিকভাবে কোথায় নিয়ে যাবে সে সম্পর্কেও জনগণকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছেব্যপক গন সংযোগ লক্ষ্য করা গেছে আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে।বিএনপি কিংবা ঐক্যফ্রন্ট তাদের পুরোটা সময়ই ব্যায় করেছে আওয়ামীলীগের অনর্থক সমালোচনা করে।দেশ ও জনগন কে প্রাধান্য না দিয়ে সারাক্ষণ ক্ষমতায় যাওয়ার চিন্তা এবং আওয়ামীলীগ কে দেশে এবং বিদেশে কিভাবে ছোট করা যায় সে সমালোচনায় মুখর থাকতে দেখা গেছে।প্রার্থীদের জনসংযোগ বলতে কিছুই ছিল না। পোস্টার , লিফলেট কিছুর ব্যবহার ই চোখে পরেনি।নির্বাচনে মনে হয়েছে বিএনপির নির্বাচনী কোন প্রস্তুতিই ছিল না।      

প্রার্থী বাছাইয়ে অনিয়ম, দুর্বলতা

নির্বাচনের পূর্বেই গত ১ বছরে আওয়ামীলীগ তাঁদের দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য বারবার জরীপ চালিয়েছে। কোন প্রার্থীর জনপ্রিয়তা বেশি, জনসংযোগে কে বেশি কাজ করছেন , কারো বিরুদ্ধে অন্য কোন অভিযোগ আছে কিনা তা নিয়ে বিভিন্ন জরিপ চালানো হয়েছে।কেউ কেউ দলীয় প্রার্থী বাছাইকে প্রভাবিত করতে প্রেস কনফারেন্স ,প্রকাশ্যে আওয়ামীলীগ সভাপতিকে অনুরোধ করেছেন কিন্তু আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা জরিপ ,জনসংযোগ, এলাকায় প্রার্থীর জনপ্রিয়তাকেই অধিক গুরুত্ব প্রদান করেছেন। অপরদিকে বিএনপি র মত এত বড় একটি দলের এ ধরনের কোন প্রস্তুতির কথা শোনা যায়নি।উপরন্তু বিএনপির ওপর নির্বাচন বানিজ্যের অভিযোগ এসেছে বারবার। একই আসনে ৩ জন নেতা কর্মীকে নমিনেশন ফর্ম কিনতে বলা হয়েছিল বিএনপির পক্ষ থেকে।পরবর্তীতে আমরা দেখেছি নমিনেশন দেয়ার পর বিএনপির বিক্ষুব্ধ নেতা কর্মীরা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে।শুধু তাই নয় বিএনপির অনেক পুরানো নেতা কর্মী হতাশা এবং ক্ষোভে প্রেস কনফারেন্স করে পদত্যাগও করেছেন।বিচার-বিবেচনা না করে প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। একইসঙ্গে যেসব প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছেন তারা গত ১০ বছর নির্বাচনী এলাকায়ও যাননি।যারা নির্বাচনে পাস করার মতো প্রার্থী তাদের মনোনয়ন না দিয়ে টাকা নিয়ে অন্যদের মনোনয়ন দিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে ধামরাইয়ের বিএনপির জনপ্রিয় নেতা জিয়াউর রহমাননারায়ণগঞ্জের তৈমুর আলম খন্দকার ও সিলেটের ইনাম আহমেদ চৌধুরীর মতো জনপ্রিয় নেতাদের মনোনয়ন না দিয়ে এমন কিছু নেতাদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছেযাদের এলাকার মানুষ চেনেই না।

নেতৃত্বের দুর্বলতা

বিএনপি দিকহারা এক রাজনৈতিক সংগঠনে পরিণত হয়েছে।চলছে নেতৃত্ব সংকট।দলের প্রধান  খালেদা জিয়া সাজাপ্রাপ্ত  আসামী । বর্তমানে জেলে কৃতকর্মের সাজা ভোগ করছেন খালেদা জিয়ার অবর্তমানে দল চালাচ্ছেন তারেক জিয়া। আরেকজন দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামীদীর্ঘদিন বিদেশে পলাতক আছেন কিন্তু তার নির্দেশ ছাড়া বিএনপির পাতাও নড়ছে না।স্কাইপি তে প্রার্থীদের ইন্টার্ভিউ নিয়েছেন। সমস্ত কলকাঠি নাড়ছেন কিন্তু মাঠে নেই। ঐক্যফ্রন্ট এর শরীক হয়েছেন কিন্তু একেক নেতা একেক সময় একেক কথা বলছেন , কেউ দায়িত্ব নিচ্ছেন না একজন আরেকজনের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন।কারো কাছেই সুস্পষ্ট কোন উত্তর নেই। আন্দোলন আন্দোলন করছেন কিন্তু কিসের আন্দোলন সেটিও সুস্পষ্ট করে জনগনের কাছে তুলে ধরতে পারেনিদলে কেউ কারো কথা শুনছেন না। লিক হওয়া বিভিন্ন অডিওর কথোপকথন নেতৃত্ব সংকট প্রকট ভাবে ভেসে উঠেছে সাধারন ভোটার দের কাছেকর্মীরাও বিভ্রান্ত প্রশ্ন সবার মনে, কে দলের নেতা? অপরদিকে আওয়ামীলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর নেতৃত্বের বলিষ্ঠটাদৃঢ়তা , দূরদর্শিতা চমৎকার ভাবে তুলে ধরেছেন। কথা কাজ দুটাতেই সামঞ্জস্য, সাধারন মানুষের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছেন।

সাংগঠনিক ঐক্য

এ নির্বাচনে আওয়ামীলীগকে দলীয় শৃঙ্খলা ছিল চোখে পরার মতন।আওয়ামীলীগের নমিনেশন দেয়া হয়নি এমন প্রার্থীরা বিরোধী হিসেবে দলের বিপক্ষে কাজ করেননি।মান অভিমান কিছু থাকলেও দলীয় প্রার্থীকে দলের সকল নেতা কর্মী সবাই সহযোগিতা করেছেন, কাজ করেছেন টিম হিসেবে। নির্বাচন নিয়ে আওয়ামীলীগের পরিকল্পনা ছিল সুদূরপ্রসারী।ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট কে কে থাকবেন, কোথায় থাকবেন, তাদের সঠিক ট্রেইনিং সবকিছুই করা হয়েছে সুশৃঙ্খলভাবে। অপরদিকে বিএনপিকে দেখা গেছে নিজেদের দীর্ঘদিনের নেতা কর্মীদের প্রাধান্য না দিয়ে শিবির থেকে পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দেয়ার পরিকল্পনা।যা পক্ষান্তরে দলীয় নেতা কর্মীদের নিরুৎসাহিত করেছে কেন্দ্রে যেতে, কাজ করতে। কয়েক জায়গায় বিএনপি থেকে কোন এজেন্টও নিয়োগ দেয়া হয়নি।  সাংগঠনিক ভাবে আওয়ামীলীগ বিএনপি কিংবা ঐক্যজোট থেকে ছিল অনেক বেশি শক্তিশালী এবং গোছানো।কর্মী এবং প্রার্থীদের নিয়ে মিটিং , আলাপ আলোচনা সবই হয়েছে নির্বাচনের আগে। অন্যদিকে বিএনপি কি আদৌ নির্বাচনে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল কিনা তা জনমনে বিরাট প্রশ্ন আঁকারে সামনে এসেছে।  বিএনপির নেতাদের ফাঁস হওয়ার ফোনালাপেই স্পষ্ট ছিল নির্বাচন নয় ,ক্ষমতায় যাওয়াই ছিল মুখ্য উদ্দেশ্য।বিএনপির নেতাদের গভীর ষড়যন্ত্রের নীল নকশা, পরিকল্পিতভাবে দেশের বিভিন্নস্থানে সন্ত্রাস-সহিংসতার মাধ্যমে একটি অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে হঠাৎ করেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ষড়যন্ত্রের কথাও ফাঁস হয়ে যায় এসব ফোনালাপে।

নির্বাচনী ইশতেহার

পশ্চিমা বিশ্বে নির্বাচনী ইশতেহার বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।বাংলাদেশের ইতিহাসে সেভাবে কখনই গুরুত্ব পায়নি কিন্তু আওয়ামীলীগ সরকার গত নির্বাচন থেকে এই  ধারার পরিবর্তন এনেছে।গত নির্বাচনে  আওয়ামীলীগের সকল প্রতিশ্রুতি তারা পুরন করেছে এবং যুগোপযোগী আরও নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এবারের নির্বাচনী প্রচারাভিযানে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী ইশতেহার দলের চিন্তা ও লক্ষ্য কর্মসূচীর সঙ্গে জনমানুষকে সম্পৃক্ত করে বাস্তবানুগ এবং বাস্তবায়নযোগ্য তাঁর ভবিষ্যত পরিকল্পনা ও কর্মসূচী ভোটারদের মাঝে তুলে ধরে জনগনের মনে ইতিবাচক আস্থার জায়গা তৈরি করতে পেরেছে।অন্যদিকে বিএনপির ইশতেহার ফাঁকা গুলির মত, বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন মনে হয়েছে।বিসিএস এর বয়স সীমা নিয়ে বিএনপির পরিকল্পনা সাধারন জনগনের হাস্যরসে পরিণত হয়েছে।     

তরুন  ভোটারদের আকৃষ্ট  

এবারের নির্বাচনে  নতুন ভোটার ছিল দুই কোটির উপরে। একটা বিশাল সংখ্যক ভোটার এবার জীবনে প্রথম ভোট দিয়েছেন।তাদেরকে নির্বাচনী ফ্যাক্টর বলে অবিহিত করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।গতানুগতিকের পরিবর্তে চমক সৃষ্টির মতো নির্বাচনী ইশতেহারতরুণ প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতে দেয়া নানা প্রতিশ্রুতি আর সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা দ্রুত সমাধানে শেখ হাসিনার অঙ্গীকার সামগ্রিকভাবেই আওয়ামী লীগের বিজয়ের অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করেছে।

জামাত জোট  

একাত্তরের পরাজিত শক্তির এ দেশীয় এজেন্টদের বাংলার জনগন অনেক আগেই বর্জন করেছে। ধর্মকে ব্যবহার করে, পাকিস্তানী ভাবধারার রাজনীতি যারা করে স্বাধীনতাবিরোধী উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠী ও সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিবন্ধন হারানো জামায়াতের সঙ্গে জোট বিএনপির ভরাডুবির অন্যতম কারন।  তাদের সাথে জোট করে বিএনপি সাধারন জনগনের মাঝে দল হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।প্রচুর টাকা ছড়িয়েও জামায়াতী চক্ররা একটি আসন তো দূরের কথাকোথাও তাদের জামানতও রক্ষা করতে পারেনি।একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্ট জামাতের ২৫ জনকে ধানের শীষে নমিনেশন দিয়েছে। ভোটের মাঠেই ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগন সাম্প্রদায়িকতাসন্ত্রাস,জঙ্গীবাদ ও উগ্র মৌলবাদকে ঘৃণার সাথে বর্জন করেছে।

কলঙ্কময় অতীত ইতিহাস

বিএনপি-জামায়াত জোটের পাঁচ বছরের দুঃশাসনদুর্নীতিঅওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলার জন্য ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের নারকীয় হত্যাকাণ্ড, জঙ্গীবাদের উত্থান, ৬৩ জেলায় একযোগে সিরিজ বোমা হামলা ,২০১৪ সালে নির্বাচন ঠেকানোর নামে দেশজুড়ে ভয়াল সন্ত্রাস,নাশকতা ও পুড়িয়ে শত শত মানুষকে হত্যা এ সকল ঘটনা  সাধারণ মানুষের মনের স্মৃতিপটে এখনও সতেজ। বাংলাদেশকে সেই আগের জায়গায় আর কেউ দেখতে চায় না। নতুন উদ্যমে নতুনের স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে চায়।বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সেক্ষেত্রে সফলতার সাথে সাধারন মানুষকে উজ্জেবিত করতে পেরেছে  সহিংসতা ও পেট্রোলবোমার রাজনীতি বর্জন করতে।    

উন্নয়ন বার্তা প্রচার

আওয়ামীলীগ সরকারের গত ১০ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশের প্রভূত উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। ভারতের সঙ্গে ঐতিহাসিক পানি বণ্টন চুক্তি,পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি চুক্তিসহ অসংখ্য ঐতিহাসিক কর্মকা- সম্পাদন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ, বিদ্যুতগ্যাসশিক্ষা, শিল্প ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষকে উপহার দিয়েছে সোনালি ভবিষ্যতের স্বপ্ন। দেশজ সম্পদমাথাপিছু আয়শিল্প-কৃষি ও সেবা খাতের উন্নয়নউন্নয়নের গতিশীলতানারী উন্নয়নস্বাস্থ্যসেবা,অবকাঠামোসড়ক ও পরিবহনযুব উন্নয়ননারীর ক্ষমতায়নঅবহেলিত জনপদ ও জনগোষ্ঠীর উন্নয়নসমুদ্র জয়সীমান্ত চুক্তির মাধ্যমে ছিটমহল সমস্যার সমাধানমানুষের দোরগোড়ায় প্রযুক্তি পৌঁছে দেয়ামহাকাশ বিজয়ডিজিটাল বাংলাদেশসামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নসর্বক্ষেত্রেই বাংলাদেশ হয়ে ওঠে বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। অন্ধকারের বদলে দেশ এখন এগিয়ে চলছে আলোর পথেযে সরকার জনসাধারণের জীবন মানের এত উন্নয়ন সাধন করেছে বাংলাদেশের এ যাবত ইতিহাসে তাঁদেরকে জনগন আবার দেশ সেবার সুযোগ দিবে এমনটা প্রত্যাশিত । দেশ যেমন উন্নত হয়েছে তেমনি উন্নয়নের বার্তা প্রচার দেশে বিদেশে ব্যাপক ভাবে হয়েছে। দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চলে দেশের সার্বিক উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে গেছে। এক্ষেত্রে দল হিসেবে আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক দক্ষতাই প্রমান করে।

 

সুশিল সমাজের সমর্থন

এবারের নির্বাচনে  উল্লেখযোগ্য দিক ছিল সুশীল সমাজের প্রতিনিধিশিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী, আইনজীবীসাবেক সামরিকবেসামরিক,আমলাপুলিশ বাহিনীর উর্ধতন কর্মকর্তা, সাংবাদিকব্যবসায়ী, সংস্কৃতিকর্মী,  সাহিত্যিক সহ দেশের প্রায় সর্ব স্তরের জনগন প্রকাশ্য মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলো।এবং সকলেই উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছিলেন একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী,বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের স্বজনদের পক্ষে থাকা বিএনপি-জামায়াত-যুক্তফ্রন্টকে ব্যালটের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যানের যা অতীতের কোন নির্বাচনে হয়নি। আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের মহাজয়ের পেছনে এটিও অন্যতম কারণ।

 

পরিশেষে , এবারের ব্যালট বিপ্লবে আওয়ামীলীগ সরকার চতুর্থবারের মতো এবং টানা হ্যাটট্রিকবার সরকার গঠন করেছে। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম সবচেয়ে বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নতুন সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন মহাজোট ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকিন্তু  আওয়ামীলীগ সরকারের প্রতি সাধারন মানুষ সহ বিশ্ববাসীর প্রত্যাশা অনেকগুন বেড়ে গেছে। গত ১০ বছরের উন্নয়নের পর মানুষ দেখতে চায় আওয়ামীলীগ সরকার দেশকে আরও কত দূর নিয়ে যেতে পারে।

সাজিয়া স্নিগ্ধা

ডিসেম্বর ২০১৮

বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ , বঙ্গবন্ধুর  আত্নস্বীকৃত খুনি এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নিরবতা  

সাজিয়া স্নিগ্ধা :: মানব সভ্যতার ইতিহাসে অন্যতম ঘৃণিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছিলো ১৯৭৫ সালের  ১৫ আগস্ট। মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত ঘাতক চক্র সেই কালরাত্রিতেই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতিজাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা করেছিলো।  

বাঙ্গালীর অধিকার আদায়ে ইতিহাসে শোষণ বঞ্চনার বিরুদ্ধে যতগুলো আন্দোলন হয়েছিলো তার প্রত্যেকটিতে বঙ্গবন্ধু ছিলেন সামনের সারিতে। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৫৪ যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন৫৮ সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন৬১ শিক্ষা নীতি আন্দোলন,৬৬ র ছয় দফা,৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান৭০ এর নির্বাচন৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং ভুমিকা ছিল সর্বাগ্রে। বঙ্গবন্ধুর কারাজীবন হিসেব করলে  দেখা যায় জীবনের ১৩টি বছর অন্ধকার প্রকোষ্ঠে  জেলখানায় কাটিয়েছেন তিনি শুধুমাত্র বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ে। নিজের আরাম আয়েশসুখ সুবিধাপরিবার পরিজনভোগ বিলাসের কথা চিন্তা করেননি কখনও

ভাষা আন্দোলনের গোঁড়ার দিকে যদি যাই ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারতবর্ষ ভাগ হয়ে পাকিস্তানের উদ্ভব হয়। পাকিস্তানের দুটি অংশ ছিল। পূর্ব পাকিস্তান এবং পশ্চিম পাকিস্তানের। দুটি অংশের  সাংস্কৃতিকভৌগোলিক ও ভাষাগত দিক থেকে অনেক মৌলিক পার্থক্য বিরাজমান ছিল।মিল ছিল কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মে। পাকিস্তানের জন্মলগ্ন থেকেই এর পূর্ব অংশ পশ্চিম অংশের তুলনায় নানাভাবে বঞ্চিত হতে থাকে। বাঙ্গালীর জীবনে শোষণ নিপীড়ন বন্ধ হয়নি তখনও। কর্মক্ষেত্রে, অধিকারে,সন্মানে সকল দিক দিয়েও বাঙ্গালি পাকিস্তানীদের কাছে নির্যাতিত নিপীড়িত বঞ্চিত হতে থাকে ক্রমাগত। প্রথমে আঘাত আসে মাতৃভাষা বাংলার ওপর। উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা বানাতে চেয়েছিল পাকিস্তান সরকার। এমন আকস্মিক এবং  অন্যায্য দাবি পূর্ব পাকিস্তানের বাংলাভাষী সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। বাংলাভাষার সম-মর্যাদার দাবিতে পূর্ব পাকিস্তানের বাংলা  ভাষা ভাষীদের মধ্যে আন্দোলন  দানা বাঁধতে শুরু করেভাষা আন্দোলনের সময়ে বঙ্গবন্ধু জেলে অবস্থান করছিলেন। ভাষা আন্দোলনকে দিকনির্দেশনা প্রদান সহ  রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবিতে  ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক শেখ মুজিব ও মহিউদ্দিন আহম্মদ রাষ্ট্রভাষার দাবিতে ১৬ ফেব্রুয়ারি ৫২ আমরণ অনশন শুরু করেন। বঙ্গবন্ধুর আত্নজীবনীতে লেখা আছে,  আমাদের এক জায়গায় রাখা হয়েছিল জেলের ভেতর। যে ওয়ার্ডে আমাদের রাখা হয়েছিলতার নাম চার নম্বর ওয়ার্ড। তিনতলা দালান। দেয়ালের বাইরেই মুসলিম গার্লস স্কুল। যে পাঁচ দিন আমরা জেলে ছিলাম সকাল দশটায় মেয়েরা স্কুলের ছাদে উঠে স্লোগান দিতে শুরু করতআর চারটায় শেষ করত। ছোট্ট মেয়েরা একটুও ক্লান্ত হতো না। রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’, ‘বন্দি ভাইদের মুক্তি চাই’ ‘পুলিশি জুলুম চলবে না’ নানা ধরনের স্লোগান। এই সময় শামসুল হক সাহেবকে আমি বললাম, ‘হক সাহেব ওই দেখুনআমাদের বোনরা বেরিয়ে এসেছে। আর বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা না করে পারবে না।’ হক সাহেব আমাকে বললেন, ‘তুমি ঠিকই বলেছমুজিব।’ ( আত্মজীবনীশেখ মুজিবুর রহমানপৃষ্ঠা ৯৩) ১৯৫২ সালে গনআন্দোলন চূড়ান্ত আকার ধারন করলে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয় এবং ১৯৫৬ সালে সংবিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।

ভাষা আন্দোলনের পরেই বঙ্গবন্ধু শুরু করেন বাঙালির স্বাধীনতাস্বাধিকার ও অর্থনৈতিক মুক্তির আন্দোলন।  ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় দল পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ১৬৯ টি আসন হতে ১৬৭ টি আসনে জয়লাভ করে এবং ৩১৩ আসনবিশিষ্ট জাতীয় পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়যা আওয়ামী লীগকে সরকার গঠনের অধিকার প্রদান করে।কিন্তু শুরু হয় ক্ষমতা প্রদানের টাল বাহানা।বছর পেরিয়ে যেতে থাকে। অপেক্ষায় ধর্যের বাঁধ যখন ভেঙ্গে যায় তখনই ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন। এই ভাষণে তিনি ২৫শে মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশনের আগে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করার দাবী জানান। ১৯৭১ এর সেই ৭ মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণে বাঙালিকে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়ে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রামএবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রম।’ বঙ্গবন্ধুর এই ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে প্রস্তুত হয় বাঙালি। ২৬ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।দেশের মুক্তিকামী মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে হাজার বছরের নির্যাতিত-নিপীড়িত পরাধীন বাঙালি জাতির স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশের বিজয় অর্জিত হয়।মানচিত্রে নতুন জাতি রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের পরিচিতি হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বাঙালি অধিষ্ঠিত করে তাদের জাতির পিতার আসনে।

বাংলাদেশ স্বাধীন হয় ঠিকই কিন্তু পাকিস্তানের দালালরা স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীন নাগরিক হওয়ার চাইতে পাকিস্তানীদের গোলামী, চক্রান্ত আর চাতুকারিতাই পছন্দ করতো।তাইতো বঙ্গবন্ধু যখন ভগ্নপ্রায় বাংলাদেশ কে বিনির্মাণে আত্ননিয়োগ করেছিলেন তখন চক্রান্তকারীরা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে কিভাবে ধ্বংস করা যায় তার পরিকল্পনা করছিলো।

নতুন আশা স্বপ্ন উদ্দিপনা নিয়ে স্বাধীনতার সুফল মানুষের ঘরে পৌঁছিয়ে দেবার জন্য দেশেরমানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে অগ্রসর হতে শুরু করেন বঙ্গবন্ধু। গ্রহণ করেন দেশ পুনর্বাসন পুনর্গঠন কর্মসূচি। প্রথমেই স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন করেন বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা নীতি, জাতীয় রক্ষীবাহিনী গঠন সেনাবাহিনীর , বিমানবাহিনী , নৌবাহিনী  পুনর্গঠন করেন। এর সাথে সাথে পাকিস্তানি দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাস্বচ্ছ নিরপেক্ষ ও উন্মুক্ত বিচারকার্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন-১৯৭৩মহান মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের পুনর্বাসন,ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের পুনর্গঠনত্রিদলীয় ঐক্যজোট গঠনবাংলাদেশ হাইকোর্ট প্রতিষ্ঠাবাংলাদেশ আইন কর্মকর্তার পদ সৃষ্টি;বাংলাদেশের জ্বালানী নিরাপত্তাপেট্রোল ও খনিজ সম্পদ উৎপাদনে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারি চুক্তি সম্পাদনরাষ্ট্রপতির ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল গঠনবাংলাদেশের সমুদ্রসীমা ও সামুদ্রিক সম্পদরাজিট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (TCB), বাংলাদেশ কনজ্যুমার সাপ্লাইজ করপোরেশন অর্ডার১৯৭২ জারিদ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল কমিটি,জাতীয় স্মৃতিসৌধ নির্মাণ প্রেক্ষাপটচিকিৎসাশিক্ষাস্বাস্থ্যভৌত অবকাঠামো,প্রাতিষ্ঠানিক অবদানঃ বেতবুনিয়া উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্র উদ্বোধনবাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের,চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন সহ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে বিভিন্ন বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে থাকেন।

বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন  এবং সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে কাজের পরিধি উল্লেখ করার পেছনে একটি কারন রয়েছে।  স্বাধীনতার পর এই সফলতা ও উন্নতির দিকে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার গতি বুঝতে পেরেই স্বাধীনতাবিরোধীচক্র দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র শুরু করে।

১৫ আগস্টের ভোরে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বাংলাদেশের স্থপতি বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজ বাসভবনে তাঁর সহধর্মিণী মহীয়সী নারী বেগম ফজিলাতুন্নেছাবঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ পুত্র মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল, কনিষ্ঠ শেখ জামাল, শিশু পুত্র শেখ রাসেলদুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামালবঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসেরভগ্নীপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত ও তার কন্যা বেবি সেরনিয়াবাত,আরিফ সেরনিয়াবাতদৌহিত্র সুকান্ত আবদুল্লাহ বাবুভ্রাতুষ্পুত্র শহীদ সেরনিয়াবাতবঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনিবঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তা অফিসার কর্নেল জামিল আহমেদ এবং ১৪ বছরের কিশোর আবদুল নঈম খান রিন্টুসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও আত্মীয়স্বজনকে ঘাতকরা হত্যা করে। বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা এবং কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধের চার মূলনীতি- ধর্মনিরপেক্ষতাবাঙালি জাতীয়তাবাদগণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র ভূলুণ্ঠিত হয়েছিলোবঙ্গবন্ধুর গৃহীত পদক্ষেপগুলোকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিলস্বাধীনতার চেতনা ও মূল্যবোধকে পদদলিত করে উল্টো পথে সেই পাকিস্তানি  ভাবধারার দিকে ধাবিত হয় বাংলাদেশ। ষড়যন্ত্রপাল্টা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে একের পর এক সামরিক স্বৈরশাসনের পালা বদল হতে থাকে। সেই সঙ্গে সামরিক স্বৈরশাসকদের ছত্রছায়ায় দেশে স্বাধীনতাবিরোধী পরাজিত গোষ্ঠীউগ্র সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী জঙ্গি গোষ্ঠীর উত্থান ঘটে।মানবাধিকার রক্ষার জন্য হত্যাকারীদের বিচারের বিধান রয়েছে কিন্তু বাংলাদেশে জাতির জনকের আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিচারের হাত থেকেরেহাই দেবার জন্য জেনারেল জিয়াউর রহমান সামরিক শাসনের মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ইনডেমনিটিঅর্ডিন্যান্স নামে এক কুখ্যাত কালো আইন সংবিধানে সংযুক্ত করে খুনিদের পুরস্কৃত করা হয় বিদেশে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে১৯৯৬সালের ২৩ জুন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর জাতির কলঙ্কময় সেই কুখ্যাত ইনডেমনিটিঅর্ডিন্যান্স জাতীয় সংসদ বাতিল করে।

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর বিশ্ব নেতৃবৃন্দ হতবাক হয়েছিল। যে বাংলাদেশের জন্য, বাঙ্গালির জন্য,  বাংলার মানুষের জন্য বঙ্গবন্ধু এত কিছু করেছেন তাকে কিভাবে বাঙ্গালীরা হত্যা করতে পারলো? ১৯৭১-এর হত্যাকাণ্ড মনে করিয়ে দেয় ২৩ জুন, ১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে পাতানো যুদ্ধের পরাজয়ের পর বিশ্বাসঘাতক মীর জাফর চক্রের হাতে মুর্শিদাবাদে নির্মমভাবে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা এবং তাঁর পরিবারের বিয়োগান্তক ঘটনা।   

আজকে বাংলাদেশে কিছু হলে দেশীয় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো সোচ্চার হয়ে যায়। বিভিন্ন পত্র পত্রিকা, টেলিভিশনে বক্তব্য দিয়ে সেমিনার করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে যেদিন সপরিবারে হত্যা করেছিলো, দেশে স্বাধীনতার অমোঘ বানী জয় বাংলা নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো, বঙ্গবন্ধুর আত্নস্বীকৃত খুনিদের পুরস্কৃত করা হয়েছিলো , মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কে ১৩ বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিলো, আত্নগোপনে থাকা হত্যাকারীদের বিদেশ থেকে ফেরত চাওয়ার ব্যাপারে কখনই কোন কথা বলতে দেখিনি।এ সকল সময় মানবাধিকার সংস্থাগুলো নিরব ভুমিকা সবসময়।  

মানুষের জন্মগত অধিকারই মানবাধিকার। বিশ্বের কোন দেশগোষ্ঠীদলজাতি ধর্ম ও বর্ণের মধ্যে মানবাধিকার সীমাবদ্ধ নয়। বরং বিশ্ব ব্যাপী সকল জাগতিক সম্পর্কের সীমানা পেরিয়ে সকল মানুষের চিরন্তন অধিকার রক্ষায় আপোষহীন সংগ্রামই মানবাধিকার। জাতিসংঘ সনদ দ্বারা এই অধিকার স্বীকৃত।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর প্যারিসে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এই ঘোষণা প্রদান করা হয়। প্রত্যেক মানুষের মানবাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে এই সনদ ঘোষিত হয়।মানবাধিকার সংস্থগুলো এ সকল অধিকার নিয়েই কাজ করে।

মানুষের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব যেমন রাষ্ট্রেরতেমনি মানবাধিকার সংরক্ষন করার দায়িত্বও রাষ্ট্রের।রাষ্ট্র যখন তা প্রদানে ব্যর্থ হয় তখন মানবাধিকার  লঙ্ঘিত হয়।তেমনি কোন সন্ত্রাসী যদি কাউকে হত্যা করে কিংবা  রাষ্ট্র প্রদত্ত অধিকার খর্ব করে তখনও মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়। হত্যা কিংবা  ন্যায়বিচারে বাঁধা বিলম্বিত হলেও মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়।  মানবাধিকার সংরক্ষণে মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্রের কিছু ধারা পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হল।  ধারা ১ এ উল্লেখ আছে,  সমস্ত মানুষ স্বাধীনভাবে সমান মর্যাদা এবং অধিকার নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। তাঁদের বিবেক এবং বুদ্ধি আছে সুতরাং সকলেরই একে অপরের প্রতি ভ্রাতৃত্বসুলভ মনোভাব নিয়ে আচরণ করা উচিত্‍।ধারা ৩ এ উল্লেখ রয়েছে ,  জীবনস্বাধীনতা এবং দৈহিক নিরাপত্তায় প্রত্যেকের অধিকার আছে।ধারা ৫ এ আছে ,  কা‌উকে নির্যাতন করা যাবে নাকিংবা কারো প্রতি নিষ্ঠুরঅমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ করা যাবে না অথবা কা‌উকে এহেন শাস্তি দেওয়া যাবে না।

উল্লেখিত ১ ধারা অনুযায়ী , বঙ্গবন্ধু যে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিলেন সে দেশে বঙ্গবন্ধুর অধিকার ছিল বাংলার মানুষ থেকে সন্মান মর্যাদা এবং অধিকার পাওয়ার । ধারা ৩  অনুযায়ী বঙ্গবন্ধুর ও   জীবনস্বাধীনতা এবং দৈহিক নিরাপত্তায় অধিকার ছিল। ধারা ৫ অনুযায়ী শুধু বঙ্গবন্ধু নয় বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যার প্রতি নিষ্ঠুরঅমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ করা হয়েছে। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরেও তারা তাঁদের পিতা এবং পরিবারের হত্যাকাণ্ডের বিচার পায়নি।

কিছুদিন থেকেই লক্ষ্য করছি সাংবাদিক শহীদুল আলমকে নিয়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলো সভা সেমিনার করছে কিন্তু শহিদুল আলম যে দিনের পর দিন বাংলাদেশের ইতিহাসকে বিকৃত করে যাচ্ছে, বাংলাদেশ নিয়ে একের পর এক মিথ্যাচার করে যাচ্ছে দেশের মানুষ ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ার কাছে এটি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো কেন কথা বলছেন না ?একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অধিকার কে তাকে দিয়েছে? এটি শুধু আইনের চোখে না দেশের মানুষের চোখেও ঘৃণিত অপরাধ। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারেও দেখেছি দণ্ডপ্রাপ্ত ফাঁসির আসামীদের জন্য মানবিকতার বার্তা নিয়ে বিশ্বব্যাপী ঘুরে বেড়িয়েছেন মানবাধিকার সংগঠনগুলো।  

 

মুক্তিযুদ্ধে পাশবিক নির্যাতনের শিকার চার লাখ মা বোন,  শীর্ষ-বুদ্ধিজীবীদের পরিবার যেমন অপেক্ষা করছে রাজাকারদের বিচারের তেমনি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাও অপেক্ষা করছে তাঁর পরিবার এবং পিতৃ হত্যার বিচারের। বঙ্গবন্ধু হত্যার সাজাপ্রাপ্ত ৬ জন পলাতক খুনি নূর চৌধুরী, এ এম রাশেদ চৌধুরী, শরিফুল হক ডালিমখন্দকার আবদুর রশিদআবদুল মাজেদ ও রিসালদার মোসলেহ উদ্দিন এখন বিদেশে পালিয়ে আছে। শুধু অপরাধীদের জন্য সভা সেমিনার না করে   মানবাধিকার সংস্থাগুলো বিভিন্ন দেশে পালিয়ে থাকা খুনিদের ফিরিয়ে দেয়ার জন্য সভা সেমিনার পিটিশন , আন্তর্জাতিক মিডিয়ার কাছে আবেদন  করতেন তাহলে বঙ্গবন্ধু হত্যার যে কলঙ্ক-তিলক  বাঙ্গালি মাথায় ধারণ করে আছে বাঙ্গালি তা নির্মূলে সহায়ক হবে। সাধারন মানুষেরও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা বাড়বে।  

 জানুয়ারী২০১৯

ওয়েলস এসেম্বলিতে বাংলাদেশের উন্নয়ন শীর্ষক আলোচনা

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান স্টাডি সার্কেলের আয়োজনে কার্ডিফের ওয়েলস এসেম্বলিতে ‘বাংলাদেশ : এ গোল্ডেন জার্নি টু ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শুক্রবার ঢাকায় প্রাপ্ত এক বার্তায় এ কথা বলা হয়।
গত মঙ্গলবার ওয়েলস এসেম্বলির হেলথ এন্ড সোশ্যাল সার্ভিসের ডেপুটি মিনিস্টার জুলি মরগানের সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ওয়েলস এসেম্বলির ১০ জন মেম্বারসহ ব্রিটিশ-বাংলাদেশী শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মী ও কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই তরুণ রাজনীতিবিদ মাসুদা আলী উপস্থিত এসেম্বলি মেম্বারদের পরিচয় করিয়ে মঞ্চে ডেকে নেন।
হেলথ এন্ড সোশ্যাল সার্ভিসের ডেপুটি মিনিস্টার জুলি মরগানের স্বাগত বক্তব্যর পরেই স্টাডি সার্কেলের চেয়ারপার্সন সৈয়দ মোজাম্মেল আলীর সভাপতিত্বে পরিচালিত হয় আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব।
আলোচনায় বক্তব্য রাখেন- ওয়েলস এসেম্বলির ডেপুটি মিনিস্টার ও চীফ হুইফ জেন হাট, এসেম্বলি মেম্বার ফর কার্ডিফ সেন্ট্রাল ডেপুটি মিনিস্টার জেনি রাথবন, এসেম্বলি মেম্বার ফর সাউথ ওয়েলস ইস্ট মোহাম্মদ আসগার, যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম, বিচারপতি সামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, কাউন্সিলর কেভিন, স্টাডি সার্কেলের গবেষক সাজিয়া স্নিগ্ধা, আনসার আহমেদ উল্লাহ প্রমুখ।
ওয়েলস এসেম্বলির ডেপুটি মিনিস্টার ও চীফ হুইফ জেন হাট বাংলাদেশের তিনটি বিষয়ে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ বিস্তারিতভাবে জানতে চান এনং জলবায়ু পরিবর্তন, কমিউনিটি হেলথ কেয়ার ও স্যানিটেসন এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সরকারি ব্যবস্থার ওপর আলোকপাত করেন।
ডেপুটি মিনিস্টার জেনি রাথবন বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা উল্লেখ করে সেখানকার পরিবেশ দূষণ রোধে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে আরও কার্যকরী হওয়ার পরামর্শ প্রদান করেন তিনি।
এসেম্বলি মেম্বার ফর সাউথ ওয়েলস ইস্ট মোহাম্মদ আসগার বলেন, ‘বাংলাদেশ শুধু খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়নি ব্রিটেনেও বিপুল পরিমাণ খাদ্য রফতানি করছে।’
যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম বলেন, ‘নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য নজির স্থাপন করেছে।’
সম্প্রতি বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের উন্নয়নকে ‘গোল্ডেন ডেভেলপমেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। বাংলাদেশে বিনিয়োগের প্রচুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
কাউন্সিলর কেভিন বলেন, ‘উন্নয়ন বিশেষ করে দ্রুত ও অব্যাহত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং অবকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই অনেক দেশের রোল মডেল হয়ে উঠেছে।’
শিক্ষাবিদ স্তেফেনি মিয়া বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নারী পুরুষের সমতায় বাংলাদেশ নিঃসন্দেহে ঈর্ষণীয় পর্যায়ে রয়েছে।
বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বাংলাদেশে গত ৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের চিত্র উপস্থাপন করেন।
সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ মোজাম্মেল আলী বলেন, ‘গত ১০ বছরে বাংলাদেশে ব্যপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। এমন কোন বিভাগ, এলাকা, অঞ্চল ও শহর নেই যেখানে উন্নয়নে ছোঁয়া পৌঁছায়নি। মানুষের জীবনযাত্রার আমূল পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু বিদেশী এবং প্রবাসীদের কাছে সে উন্নয়ন বার্তা সঠিকভাবে পৌঁছায়নি। আর সে কাজটিই স্টাডি সার্কেল শুরু করেছে। প্রবাসীদের এবং আমাদের বন্ধু রাষ্ট্রের কাছে তুলে ধরছে স্টাডি সার্কেল।’
তিনি বলেন,ইতোমধ্যে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপিসহ ওয়েলস এসেম্বলির সদস্যদের কাছে বাংলাদেশের প্রতিটি খাতের উন্নয়ন চিত্র নিয়ে স্টাডি সার্কেলের প্রকাশনা পৌঁছে দেয়া হয়েছে। ওয়েলস এসেম্বলিতে আয়োজনের মাধম্যে ওয়েলস পার্লামেন্টের সদস্যদের কাছে বাংলাদেশ নিয়ে তাঁদের ভাবনা এবং প্রশ্ন জানার জন্য এ আয়োজন করা হয়েছে।
সাংবাদিক আনসার আহমেদ উল্লাহ স্টাডি সার্কেলের কার্যক্রম তুলে ধরার পাশাপাশি প্রবাসে থাকা উচ্চশিক্ষিত সকল বাংলাদেশীদের দেশের উন্নয়নে কার্যকরী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
স্টাডি সার্কেলের গবেষক সাজিয়া স্নিগ্ধা রাষ্ট্র পরিচালনায় সুশাসনের গুরুত্ব এবং বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।
এ অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ, হেলথ মিনিস্টার ভঘান গেথিং, ডেপুটি মিনিস্টার ডইফর ম্যারিওনড, শিক্ষাবিদ গ্লেন ব্রেনাম, শিক্ষাবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব-জালাল উদ্দিন, আব্দুল আহাদ চৌধুরী, নাজিম করিম, শামিম আহমেদ, ইয়াদিয়া জামান, মিসবা সাদাত, ওয়াসিমুজ্জামান, মাসুম, আনোয়ার আলী, শেখ মোহাম্মদ তাহির উল্লাহ ও সাংবাদিক মকিস মনসুর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

হাউজ অব লর্ডসে শেখ হাসিনা সরকারের গত ১০ বছরের উন্নয়ন আলোচনা

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান স্টাডি সার্কেলের আয়োজনে সম্প্রতি হাউজ অব লর্ডসের ঐতিহাসিক এটলে রুমে অনুষ্ঠিত হল বাংলাদেশের গত ১০ বছরের উন্নয়ন নিয়ে “বাংলাদেশ এ গোল্ডেন জার্নি টু ডেভেলপমেন্ট ” শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান।
স্টাডি সার্কেলের চেয়ারপার্সন সৈয়দ মোজাম্মেল আলীর সভাপতিত্বে এবং স্টাডি সার্কেলের গবেষক সাজিয়া স্নিগ্ধার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্পীকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাউজ অব লর্ডসের সদস্য ব্যারোনেস মঞ্জিলা পলা উদ্দিন,পপলার লাইম হাউজের এমপি জিম ফিটজ প্যাট্রিক, ব্রেনট কাউন্সিলের এমপি শ্যাডো ওমেন এন্ড ইকুয়ালিটি সেক্রেটারি ডওন বাটলার এমপি , বাংলাদেশ হাই কমিশন লন্ডনের হাই কমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম এবং বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।
স্টাডি সার্কেলের চেয়ারপার্সন সৈয়দ মোজাম্মেল আলী স্বাগত বক্তব্যে বলেন বাংলাদেশের যে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে তা প্রবাসীদের কাছে এবং আমাদের বন্ধু রাষ্ট্রের কাছে তুলে ধরার প্রয়াসে স্টাডি সার্কেলের এর যাত্রা এবং আজকের এ আয়োজন।তিনি জানান ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সাড়ে ছয়শ এমপির কাছে বাংলাদেশের উন্নয়নের গল্পগাথা ইতিমধ্যে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।
সভাপতির স্বাগত বক্তব্যের পরেই স্পীকাররা বাংলাদেশের উন্নয়ন চিত্র নিয়ে তাঁদের মতামত উপস্থাপন করেন। হাউজ অব লর্ডসের সদস্য ব্যারোনেস মঞ্জিলা পলা উদ্দিন স্টাডি সার্কেলের প্রকাশনা বাংলাদেশ এ গোল্ডেন জার্নি টু ডেভেলপমেন্ট” এর ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন এত দ্রুত সময় বাংলাদেশের উন্নয়ন বিশ্বে অন্যন্য দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছে।
লেবার পার্টির সিনিয়র এমপি জিম ফিটজপ্যাট্রিকস বলেন, নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য উন্নয়নের নজির স্থাপন করেছে। বিভিন্ন খাতে সম্প্রতি বাংলাদেশের উন্নয়নকে ‘গোল্ডেন ডেভেলপমেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ‘গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ’ শীর্ষক সর্বশেষ রিপোর্টে একই অভিমত তুলে ধরা হয়েছে। এই রিপোর্টে নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষ এবং বৈশ্বিক সূচকে ৫ম অবস্থানে রয়েছে।
ব্রেনট কাউন্সিলের এমপি শ্যাডো ওমেন এন্ড ইকুয়ালিটি সেক্রেটারি ডওন বাটলার এমপি বলেন, উন্নয়ন বিশেষ করে দ্রুত ও অব্যাহত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন, কমিউনিটি হেলথ কেয়ার এবং অবকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই অনেক দেশের রোল মডেল হয়ে উঠেছে।বিশেষ করে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নারী পুরুষের সমতায়।
বাংলাদেশ হাই কমিশন লন্ডনের হাই কমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, বিশ্বের থিনট্যাঙ্কদের কাছে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের বিস্ময়। যা শেখ হাসিনার সাহসী ও দূরদৃষ্টি সম্পন্ন নেতৃত্বের কারণে সম্ভব হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের হাউস অব লর্ডসে এক বৈঠকে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক গত ১০ বছরে বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং জনসাধারনের সুবিধার জন্য সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরেন।
স্পীকারদের বক্তব্যের পরেই শুরু হয় আগত অতিথিদের নিয়ে এক মুক্ত আলোচনা সভার।মুক্ত আলোচনায় ক্লাইমেট চেঞ্জ , রোহিঙ্গা ইস্যু সহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।
আলোচনা শেষে স্টাডি সার্কেলের সমন্বয়ক জামাল খান আলোচনা অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করে সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং এ ধরনের আয়োজন স্টাডি সার্কেলের পক্ষ থেকে নিয়মিত করার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে আর যোগ দেন ছিলেন ইউনাইটেড নেশনের সাংবাদিক মিস ক্লার্ক , সাবেক মেয়র এবং কাউন্সিলার পারভেজ আহমেদ, সাবেক কাউন্সিলার মুরাদ কোরেশী এম এল , কাউন্সিলার দিলআর আলী, ইস্ট বর্ণ কাউনটি কাউন্সিলের মজমিল হুসেন, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব শামসুদ্দিন খান, সুলতান মাহমুদ শরীফ, জালাল উদ্দিন, এম এ হাশেম, আব্দুল আহাদ চৌধুরী,মিসবা সাদাত, নাজিম করিম, খালেদ জয়, আব্দুল বাসির, মাহমুদা মনি এড ইয়াদিয়া জামান সহ বিশিষ্ট কয়েকজন ব্রিটিশ পার্লামেন্টারিয়ান, ব্রিটিশ-বাংলাদেশী শিক্ষাবিদ এবং রাজনীতিবিদ , কমিউনিটি নেতা, সাংবাদিক ও উন্নয়নকর্মী।

তিন বছরে প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশে পৌঁছাবেঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের বার্ষিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আগামী তিন বছরের মধ্যে ১০ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার জাপানের ঐতিহ্যবাহী গণমাধ্যম নিকে এশিয়ান রিভিউকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, বহুবিধ নীতিমালা গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ এশিয়ার দ্রুততম অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দেশে পরিণত হতে পারে।

অর্থনৈতিক প্রসারের পাশাপাশি শতভাগ বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে সরকার জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

নিকে এশিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনা গত প্রায় এক দশক ধরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে প্রবৃদ্ধির হার বেড়ে ৬ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশ হয়েছে। গত অর্থবছরে এ প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ। ক্রমাগত এ হার আরও বাড়তে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে বিজয়ী হলে প্রবৃদ্ধির হার বাড়ানোর ধারা বজায় রাখার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। নিকে এশিয়ানকে তিনি বলেন, ‘আমি আশ্বস্ত করছি যে, যদি নির্বাচিত হই, তবে আমরা যে কর্মসূচি হাতে নিয়েছি তাতে ২০২১ সাল নাগাদ প্রবৃদ্ধির হার ১০ শতাংশে পৌঁছাবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে রাজি করানোর চেষ্টা চলছে। বর্তমানে এমন ১১টি অঞ্চলে কার্যক্রম চলছে, বাকি ৭৯টি নির্মাণাধীন।

নিকে এশিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, আসন্ন নির্বাচন শেখ হাসিনার নীতিমালার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেছিল। সে বার নির্বাচন বর্জন করে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। তবে এবার বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। জনমত জরিপগুলোর ফলাফলে দেখা গেছে, ৩০০টি আসনের মধ্যে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করবে আওয়ামী লীগ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আগামী বছর যত দ্রুত সম্ভব দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়নে দরপত্র আহ্বান করা হবে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রক্রিয়াকে বিস্তৃত ও বৈচিত্র্যপূর্ণ করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপন করা হবে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে উদ্ধৃত করে নিকের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ১৭ হাজার ৩৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ৫৮ শতাংশই প্রাকৃতিক গ্যাসের মাধ্যমে উৎপাদন করা হয়ে থাকে। তবে দেশে গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি উলেল্গখযোগ্য হারে বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের জন্য পারমাণবিক বিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রতিবছর বাংলাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে ১০ শতাংশ হারে।

নিকের প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে উচ্চাকাঙ্ক্ষী অবকাঠামো কর্মসূচি হাতে নেন শেখ হাসিনা। তার শাসনকালে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা ২৭টি থেকে বেড়ে ১২১টিতে দাঁড়িয়েছে। ১৬ কোটি ৬০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে ৯৩ শতাংশের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। আগে এটা ৪৭ শতাংশ ছিল। আগামী বছরের মাঝামাঝি নাগাদ শতভাগ মানুষের কাছে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

রাশিয়া ও ভারতের সহযোগিতায় বাংলাদেশের রূপপুরে তৈরি হচ্ছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। নিকে এশিয়ানকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি চুল্লির উৎপাদন ক্ষমতা হবে সর্বমোট ২৪০০ মেগাওয়াট। ২০২৪ সাল নাগাদ সেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।’

প্রস্তাবিত দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখনও জমি খুঁজছি।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দক্ষিণাঞ্চলে নির্মিত হবে। প্রধানমন্ত্রী জানান, নির্বাচনের পর স্থান নির্ধারণ হলে এ ব্যাপারে প্রস্তাব আহ্বান করা হবে।

নিকে এশিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন পারমাণবিক কেন্দ্রে বিনিয়োগে চীন আগ্রহী বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশে ৩৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে চীনের। এর মধ্যে ২৪ বিলিয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণে দ্বিপক্ষীয় সহায়তা ও যৌথ প্রকল্পের জন্য দেওয়া হবে ১৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। ভারতকে হটিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ২৫ শতাংশ শেয়ার কিনে নিয়েছে চীন। এ ছাড়া চীনের সামরিক সরঞ্জাম আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অন্যতম শীর্ষ দেশগুলোর একটি।

শেখ হাসিনা বলেন, শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে। তবে নতুন পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে আমরা তাদের প্রস্তাবই গ্রহণ করব, যার মাধ্যমে দেশের জন্য উপযোগী ও স্বস্তিদায়ক কিছু হবে।

মিয়ানমার থেকে আট লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে আসার বিষয়কে নির্বাচনী ইস্যুতে পরিণত করার সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাইলে তা উড়িয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে। কারণ, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশিরাও পাকিস্তানের এমন নিপীড়নের শিকার হয়েছিল। তখন প্রায় এক কোটি বাংলাদেশিকে আশ্রয় দেয় ভারত। নিজেদের অতীতের পরিস্থিতির কথা মনে করেই বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি খুবই ভাগ্যবান যে, জনগণ আমাকে বিশ্বাস করেছে। যখন রোহিঙ্গাদের দুর্দশা দেখে সবাইকে এগিয়ে আসতে বলেছি, প্রয়োজনে আমাদের খাবার ভাগ করতে বলেছি, তখন জনগণ তা মেনে নিয়েছে। আশ্রয় দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের যা করার ছিল করেছি। তাদের আশ্রয় দিয়েছি, খাবার দিয়েছি, চিকিৎসা দিয়েছি। নারী ও শিশুদের যত্ন নিয়েছি।

নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর বিষয়ে একমত হয়েছিল বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। তবে রোহিঙ্গারা যেতে আগ্রহ প্রকাশ না করায় তা পিছিয়ে যায়। ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের পরিকল্পনার বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন শেখ হাসিনা। তবে দ্বীপটি বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে এবং এটি কারাগারের মতো হবে, এমন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।

নিকে এশিয়ানকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি চমৎকার একটি দ্বীপ। এখানে সবাই গরুর খামার করতো। রোহিঙ্গারা এখানে ভালো থাকবে। শিশুরা শিক্ষার আলো পাবে, চিকিৎসা পাবে। ত্রাণ সরবরাহের সুবিধার জন্য অবকাঠামোও নির্মাণ করব আমরা। আপাতত এক লাখ মানুষের আবাস তৈরি করা হলেও সেখানে ১০ লাখের বসবাসের ব্যবস্থাও সম্ভব।’

সাক্ষাৎকারে তিনি আবারও আশ্বস্ত করেন যে, কোনো শরণার্থীকে জোর করে মিয়ানমারে পাঠানো হবে না। তবে এই সংকট সমাধানে অন্যান্য দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কীভাবে মিয়ানমারকে তাদের জনগোষ্ঠীকে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করা হবে, তা এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল

Sheikh Hasina: Daughter of Democracy and Herald of Change

She gave the nation a new vision – Vision 2021, transforming Bangladesh into a middle-income country. She gave Bangladeshis the dream of Digital Bangladesh- an IT-based country. Four decades into independence, she has brought solace for 3 million martyrs and their families by initiating the much-awaited war crimes trial.

Prime Minister Sheikh Hasina led the country to witness the economy growing at a record pace. Her prudent leadership ensured the primary school enrolment rate reaching the highest it has ever been. Her visionary approaches to women empowerment earned her global acclamation. During her first tenure, she made the peace treaty – ending decades-long conflict between indigenous people and Bengali settlers. Most importantly, she is the custodian of the spirit of 1971-Liberation War of Bangladesh.

The daughter of assassinated parents – the sister of murdered brothers, she literally turned grief into courage to lead the country. Following the assassination of most of her family members by a group of disgruntled army officers, she had to spend six years in exile. Her comeback, in 1981, meant the comeback of democracy, the farewell to unelected power and beginning of the national progress. She herself survived as many as 19 murder attempts including 2004-grenade attack by militants, backed by the then BNP led government.

Elected the Prime Minister for the third time in 2014, she is putting her best to build a poverty and hunger free country as envisioned by her father –the father of the nation – Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman.

A Born Leader
She was born in Tungipara of Gopalganj district on September 28, 1947 – the year marking the births of two countries – India and Pakistan. Bangladesh became a part of Pakistan. Her father spent most of times organizing movements against the repressive regime of Pakistan. Sheikh Hasina as a student leader took part in pro-liberation movements. She actively participated in anti-Aiyub (the then President of Pakistan) movement in 1962.

As the Vice President of the students’ union at Eden College, she led a movement in demand of building Shaheed Minar (memorial for language martyrs) in all educational institutes. Her movement turned into a success. Language heroes sacrificed their lives in 1952 protesting Pakistan’s decision to wipe out Bangla as a state language. During the 1971-Liberation War of Bangladesh, her father Bangabandhu was arrested and landed in Pakistani jail. Sheikh Hasina with her mother Begum Mujib, both confined to house, played a vital strategic role in the war.

Champion of Change 
On December 12, 2008 evening, Sheikh Hasina presented “the charter of change” – the election manifesto of Awami League which later became the unanimously accepted charter in the ninth parliamentary election. In the election, her party won 264 seats out of 300. The charter outlined the nation’s roadmap to become a middle income country within 2021.

To that goal, under her discreet leadership, the national GDP rose to 7.01 – the per capita income soared to USD 1466 – poverty dropped by its half to 22.04% – 10 million jobless were employed.

She herself is one of top 100 women in the world. She works untiringly to transform the fate of country’s women as well. Her remarkable contribution to women and girls education earned her ‘Tree of Peace’ award by UNESCO.

Her policies have turned around 20 million lives. The United Nations General Assembly has adopted her six-point resolution on poverty. In addition, many state-premiers and international organisations working on reducing poverty have come up with effusive praises for her.

During first term, her government constructed Jamuna Multi-purpose bridge, 11th largest bridge of the world. In the wake of the devastating 1998-flood, her government supplied food to around 20 million helpless people. Some remarkable achievements also took place in that regime – gaining food security, 21st February (mother language day of Bangladesh) getting recognized as the International Mother Language Day.

For her contribution in expanding information technology, ensuring healthcare to grassroots level, improvement of society’s distress people through safety net programme and success in poverty alleviation, she has been honored with ‘South South Cooperation Visionary’ Award of United Nations.

For building a healthy future for the her people and to set an example for the developing countries, Sheikh Hasina put her best to ensure healthy mother and healthy child. This tireless effort came with an achievement in 2011 as Bangladesh achieved the Millennium Development Goal of reducing child mortality by 50 percent well ahead of 2015.

The Path Finder of Democracy
Sheikh Hasina led Bangladesh to the path to democracy. With her untiring struggle and dynamic leadership, she had been succeeded in her attempt to free the country from the deadly clutch of military regime in 1990 through the all-party political movement.

Her party Awami League became the main opposition under her leadership through 1991-national election. In 1996, her leadership led Awami League to secure a win in the national election

Black chapters again took over in 2001. BNP-Jamaat formed the government. It was in this tenure militants raise their ugly heads. Simultaneous bombing in all 64 districts of Bangladesh occurred on a single day, 17th August, 2005.On January 11, 2007, the Awami League’s all-out movement, led by Sheikh Hasina, resulted in the cancellation of the election – an evil design of the incumbent BNP-Jamaat alliance to assume state power depriving people of their rights to franchise. The state of emergency was announced. A military backed caretaker government took over. Conspiracies went on to overthrow Sheikh Hasina from politics. She was arrested on July 16, 2007.

Amid public protest and mass signatures against her detention, she was released in parole on June 11, 2008. She went abroad for treatment and came back on December 4. Her party won the ninth parliamentary election.

Upon completion of successful five year, public faith in her Vision-2021 got her elected again in 2014 for next five years.

As for her noble cause, she has always been a target of militants and fundamentalists due to her anti-terrorism stance. Till date, she survived as many as 19 murder attempts – the fiercest one taking place on 21st June, 2004. It appeared like a doom’s day at the capital’s Bangabandhu Avenue. Grenades were showered on a Sheikh Hasina-led anti-terrorism rally. Then came bullets. Party leaders, activists and supporters cordoned around Sheikh Hasina, the then leader of opposition. At least 30 (thirty) of them died.

In the aftermath, the area was left with sandals, fleshes and blood. Hasina herself suffered severe hearing complications.

The Peacemaker
Throughout her life, Sheikh Hasina has demonstrated a resilient endeavor to promote peace and disarmament within the communities and across the globe. Her government strongly believes in the centrality and legitimacy of the UN as the custodian of global peace, security and development. Her commitment to international peace is manifested through Bangladesh’s flagship UNGA (United Nations General Assembly) Resolution on ‘Culture of Peace and Non Violence’. She has overseen the contribution of 128,133 peacekeepers in 54 peace missions of United Nation.

Earlier, in 1998, Sheikh Hasina persuaded India and Pakistan not to start nuclear-arm competition when both the nations tested explosions of nuclear bombs. In recognition of her contribution for signing of the CHT Peace Treaty, UNESCO bestowed its Houphouet-Boigny Peace Prize upon her. In 2013, she received Rotary Peace Prize.

On January 12, 2010, she was awarded Indira Gandhi peace Prize for her campaign for peace and development.

Custodian of the Spirit of 1971 
Flag destroyers cannot be trusted with flags. But a previous government had given the war criminals of the Liberation War of 1971, the rights to put national flag on their cars! The ‘Razakaars’ who assisted the West Pakistani Army to kill 3 million Bangladeshi people and rape 300,000 mothers and sisters, were awarded with ministries to govern! Voted back to power for the second time, Sheikh Hasina, in 2009, set up the highly transparent, impartial and independent International Crimes Tribunal (ICT) in line with her electoral promise to end the culture of impunity enjoyed by the war criminals. Some of the sentences have been carried out. Many of the war criminals are now facing the trial.

Protector of Our Nation’s Sovereignty
Thanks to her visionary diplomatic policies, the parliament of India has passed the historic Land Boundary Agreement with Bangladesh. This marked the end to four decades of old miseries of the enclave people. During her 2009-2013 tenure, Bangladesh won two maritime disputes with India and Myanmar. Bangladesh gained 19,467 square-kilometres out of total 25,602 square-kilometres disputed area with India in the Bay of Bengal.

Conclusion
Unyielding struggle and revolutionarily works of Sheikh Hasina for the betterment of mankind have made her a leader beyond the boundaries. Honors and awards continue to follow her. Now she has set her goal to uphold Bangladesh to the developed world. With her uncompromising stance towards the betterment of her men and her long journey in country’s development, it is needless to say, only Sheikh Hasina holds the key to the future Bangladesh.